Saturday, December 28, 2019

ভূতের গল্প

 

ভূতের গল্প

বন্ধুগণ নমস্কার আপনাদের প্রচুর ভালোবাসা আর সুন্দর সুন্দর কমেন্টস পেয়ে চিন্তা করছিলসাম এবার কি লিখবো যা আপনাদের পছন্দ হয়,? এমন সময় আমার একজন পাঠিকা লিখলেন যে বন্ধু একটা ভূতের গল্প লিখুন প্লিজ, আমি বললাম ভূত সম্বন্ধে আমার কোনো বাস্তবিক অভিজ্ঞতা নেই, তবে ছত্তীসগড় এলাকার লোকেরা ভূত কে ভীষণ ভয় পায় আর ভূতকে দেও বলে মানে দেবতার সমান স্ট্যান্ডার্ড ভূতের ! এই এলাকাতে এখনো অনেক জায়গা আছে যেখানে গভীর জঙ্গলের ভয়াবহ অবস্থা বর্তমান, সেখানে জংলী কুকুর থেকে নিয়ে সাপ, বাঘ, ভাল্লুক, কাঁকড়া বিছে পর্যন্ত আছে ! এছাড়া আছে জংলী আদিবাসী আর কিছু দুর্ধর্ষ আতঙ্কবাদী সংস্থার মিলিটারির সদস্যরা যারা অনবরত নিজেদের স্থান পরিবর্তন করতে থাকে আর যদি কোনো লোক কে পুলিশের গুপ্তচর বলে সন্দেহ হয়, তখন তাকে বন্দি করে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যায় ! সেইজন্য দিনের বেলাতেও লোকে জঙ্গলের ভেতরে যেতে সাহস পায়না !সেখানে হেঁটে কিংবা সাইকেল করে পৌঁছতে হয় ! পটভূমি রায়পুর শহরে ভারত অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানির একটা অফিস ছিল আর আমি সেখানে মাঝে মাঝে আসতাম আর সেখান থেকে বস্তুর নামক একটি অঞ্চলে যেতে হতো ! কোম্পানি আমাকে খরচ করবার জন্য যে টাকা দিতো তার কোনো হিসাব রাখবার সিস্টেম ছিলনা, কিন্তু আমার বস ড্: দত্ত খুব অভিজ্ঞ লোক ছিলেন তিনি আমাকে বললেন মৈত্র বাবু আপনি যে টাকা খরচ করেন সেই খরচের একটি হিসাব কোন প্রাইভেট রেজিস্টার্ড একাউন্টেন্ট কে দিয়ে অডিট করিয়ে নেবেন নইলে ভবিষ্যতে কোনো ভিজিলেন্স কেস হলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন ! এই ব্যাপারে বালকোর একাউন্টস অফিসার মুখার্জি বাবু আমাকে একটা চিঠি কমল  সরকার বাবুর নামে লিখে দিয়েছিলেন, সেই সূত্রেই কমল সরকারের সাথে আমার আলাপ হয়েছিল! ! পরে সরকার বাবু ভিলাই স্টিল প্লান্টের কাজ নিয়ে ভিলাই এসে নেহেরু নগরে বসবাস করতে লাগলেন ! আমার বাড়ি স্মৃতি নগরে আর আমাদের সাক্ষাৎ মাঝে মাঝে হয়, সেই সময়ে ছত্তিশগড়ের ইতিহাস নিয়ে অনেক গল্প হতো আমাদের মধ্যে ! তিনি একদিন এসে বললেন দাদা একটা এডভেঞ্চারের মতন কাজ আছে আপনি আমার সাথে বস্তরে গেলে একজনের (সরকার বাবুর বন্ধু) খুব উপকার হবে ! আবদার ধরলেন তার সাথে বস্তুর অঞ্চলের একটি গ্রামে যেতে হবে ! জমিদারের লোকেরা আমাদের সব ব্যবস্থা "জুতো সেলাই থেকে চন্ডি পাঠ" করবে ! আমি জমিদার বাড়ির গল্প শুনলাম আর রাজি হয়ে গেলাম !জগদলপুর হলো বস্তুর জেলার মুখ্যালয় আর জমিদার বাড়ি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ইন্দ্রাবতী নদীর দুটি শাখা দিয়ে বেষ্ঠিত একটি দ্বীপের মতো গ্রাম নাম রামপুর ! পরদিন সকালে জমিদারের লোকেরা গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের বস্তরের এক গভীর জঙ্গল প্রান্তে পৌঁছে দিলো ! সেখানে বিরাট একটি লোহার গেট ছিল নদীতে যাওয়ার জন্য ! নদীর পাড় পাথরের দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল অনেক দূর পর্যন্ত, আর দুদিকের দেওয়ালের শেষ অংশ গুলি জলের নধ্যে ছিল, যাতে কোনো লোক বিনা অনুমতিতেএই জলপথ দিয়ে রাজ্ প্রাসাদে ঢুকতে না পারে ! গেটের ভেতরে পালকি ছিল আর সেই পালকি চড়ে জলে ঢাকা পথ দিয়ে আমরা দুজনে রামপুরের পথে রওনা দিলাম ! পথে কমল বলল দাদা প্রতি বছর আমাকে এই গ্রামে জমিদারের ঠেকেদারির ব্যবসার অডিট রিপোর্ট তৈরী করতে হয় ! এখানকার জমিদার বাবু উদিত নারায়ণ খুব ভালো লোক ছিলেন ! ওনার মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র আকাশ (বড়) আর বাদল (ছোট) দুই ভাই বাবার সম্পত্তির অধিকারী হল ! বড় ভাই প্রথম থেকেই উশৃঙ্খল আর দুষ্ট প্রকৃতির ব্যক্তি ছিল সে চোরা কারবারের ব্যবসাতে লিপ্ত ছিল আর বেতন দিয়ে গুন্ডা পুষত! আর বাদল খুব মেধাবী আর সংযত ছিল সে জমিদারির চাষবাস নিয়ে থাকতো আর পাশের গ্রামের জমিদারের মেয়ে নীলার সাথে ভাব ভালোবাসা ছিল, জমিদার উদিত নারায়ণ বেঁচে থাকতেই বাদল আর নীলার বাগদান হয়ে গিয়েছিলো ! গুজব ছিল যে আকাশ নীলা কে বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু নীলা বাদল কে ভালোবাসত এই কারণে সে আকাশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ! আকাশ আক্রোশ বসত পিতার হত্যা করেছিল আর সম্পত্তি জোর করে বাজেয়াপ্ত করেছিল ! বাদল সন্যাসী হয়ে গৃহত্যাগ করেছিল আর আকাশ নীলাৰ বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করে নীলাকে বিয়ে করেছিল ! কমল বললো দাদা আমি এবার আকাশ কে বলেছি যে এখন আইনের খুব কড়াকড়ি চলছে সরকারের দিকথেকে সিনিয়র অডিটর আসবে তদন্ত করতে ! আপনি আকাশের কথার উত্তর কঠিন ইংরেজিতে বলবেন ও ইংরেজি খুব একটা বোঝেনা তাই নীলাকে বলবে আপনার সাথে কথা বলতে !

 ভূতের আবির্ভাব

আমরা বিকেলবেলা জমিদারের প্রাসাদে পৌঁছিলাম ! আমাদের খুব ভালো করে অভ্যর্থনা করা হলো ও রাতে নাচ গান আর খাওয়া দাওয়া হলো রাত প্রায় ১২টার সময় আমি অতিথিশালা আসলাম ! এই বাড়িটা একেবারে প্রাসাদের বাইরে নির্জন এলাকাতে ছিল আর এখানে আসতেই একটা বিকট শব্দ হলো ! আমার পিছু পিছু আকাশবাবু মদের নেশায় টলতে টলতে আসল আমি ওকে ভেতরে আসতে বললাম কিন্তু সে কিছুতেই ভেতরে আসলনা ! আকাশবাবু বললো এই বাড়িটা আমার প্রিয় ভাইয়ের ছিল ! কাল সকালে আমি জগদলপুর যাবো কোর্টে মামলা আছে তবে বেলা একটার সময় ফিরে আসবো এই বলে আমার হাতে ২০০০ টাকাযে ঠাসা একটা মোটা ব্যাগ দিলেন, আর বললেন যেমন রিপোর্ট তৈরী হয় প্রতি বছর অমনি রিপোর্ট বানানো থাকবে ! আমরা দুজনে লাঞ্চ খাবার পর একসাথে সেই রিপোর্টে দস্তখত করবো, আর রিপোর্টটা ফ্যাক্স করে দেওয়া হবে তার পর আমি আপনাদের কে পালকি করে নদী পার করিয়ে দেব, সেখানে আমার ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে থাকবে আর আপনাদের বড়ি পৌঁছে দেবে ! কিছু উল্টো পাল্টা করতে  যাবেন না স্যার নইলে আপনার আর ফেরত যাওয়া হবে না এখানে অনেক আতঙ্কবাদীরা থাকে ! আমি বললাম ইউ অরে এ স্টুপিড গায় ! আকাশ বললো আজ একটু বেশি নেশা করে ফেলেছি,থ্যাংক ইউ গুড নাইট ! ঘরের ভেতর থেকে একটা ছোট বাচ্চার কান্নার শব্দ আসছিলো তাই শুনে আকাশ ছুটে পালালো ! আমি ঘুঁষের টাকাটা টেবিলে রাখলাম আর লেপের তলায় ঢুকলাম, আকাশের ছুটে পালানোর কথা মনে করে হাসি পাচ্ছিলো ভাবলাম এই ভীতু লোকটা কি করে এত শয়তানি করে ? তারপর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ! মধ্যে রাতে হটাৎ একটা শব্দে আমার ঘুম ভাঙল আর দেখলাম কেউ যেন আমার ঘরের মধ্যে চলা ফেরা করছে ! আমি ভূতে বিশ্বাস করি না তবে চোর ঢুকলে একটু শংকিত হই ! আমি সেই ছায়া কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি ভাই চোর সে ফিশ ফিশ করে বলল না আমি ভূত ! আমি বললাম ভূতের গল্প অনেক শুনেছি কিন্তু সত্যি সত্যি কোট প্যান্ট পরা ভূত এই প্রথম দেখলাম ? তবে আপনার নাম কি ভুতু বাবু ? সে বললো বাদল ! আমি বললাম কমল বাবু আমাকে বলেছিলো যে উদিত নারায়ণের ছোট ছেলের নাম বাদল ! আকাশ বাবু জেনে শুনে আমাকে ভূতের ঘরে রেখে গেল ? ভূত বললো দাদা জানে না আমি এই ঘরে থাকি ! কমল বাবু আপনার সাথে আমার পরিচয় করাবার জন্যই এনেছেন ! আমি বললাম সে কি কমল বাবুও এই ভৌতিক খেলাতে লিপ্ত ! বাদল বললো আমরা তিনজন ছিলাম এবার চারজন হলাম ! আমি বললাম তৃতীয় জনটা কে ? বাদল বললো নীলা আমার বাগদত্তা !
আমি বললাম বাদল বাবু দেখুন টেবিলের ওপরে একটা ব্যাগ আছে ওটার মধ্যে কিছু টাকা আছে ওগুলো আপনার ! বাদল বললো তা কেন আপনাকে আমরা এখানে এনেছি তার তো একটা মূল্য আছে ! আমি বললাম যখন আমরা এক দলে তখন এই রোজগারটির চার ভাগ হবে !এবার বলুন আমাকে কি করতে হবে ? বাদল বললো আগে সব কথা শুনুন তারপর কাজের পদ্ধতি সাজানো হবে !

বাদলের কথা
বাদল বললো স্যার কমল বাবুকে আমি দেখছি অনেক দিন থেকে, বাবার সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক এবং আর্থিক লেনদেন সামলাতে উনি ছাড়া আর কেউ এই কঠিন কাজ করতে পারবেনা তাই দাদা কমল বাবুকে কাজ থেকে বরখাস্ত করতে পারছ না ! আমার দাদা ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনাতে খুব খারাপ ছিল ! স্কুল থেকে পালিয়ে গিয়ে যতসব দুষ্টু ছেলেদের সাথে মিশত! দাদার একমাত্র দুর্বলতা ছিল ভূতের ভয়, তাই আমি ওকে ভূতের ভয় দেখিয়ে নিজেকে রক্ষা করতাম ! বাবা ওকে ব্যবসাতে লাগালেন কিন্তু সেখানেও সে ক্যাশ তছরুপ করল আর জুয়া খেলতে লাগল ! দাদা কোম্পানির টাকা চুরিকরে নার্কোটিকস উপাদানের (মাদক দ্রব্যের) আর বেআইনি অস্ত্র শস্ত্রের চোরা কারবার শুরু করলো এবং প্রচুর টাকা রোজগার করল ! বাবা বুঝতে পেরেছিলেন যে আকাশ যে পথে অগ্রসর হচ্ছে সেখান থেকে ফেরার কোনো পথ নাই ! তখন তিনি এই অতিথিশালা তৈরী করেছিলেন পরিবার কে আকাশের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য ! এই বাড়িতে দুটি সুড়ঙ্গ পথ আছে একটি পথ আমাদের ঠাকুরঘর থেকে অতিথিশালা পর্যন্ত আর দ্বিতীয় পথ অতিথিশালা থেকে নীলাদের বাড়ি পর্যন্ত ! দুটি পথই সুরক্ষিত আর প্রবেশ দ্বারগুলি গুপ্ত আর বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার দ্বারা পরিচালনা করা হয় আর সংকেত ফিঙ্গারপ্রিন্ট গুলি আমার আর বাবার ছিল ! কিন্তু এই পথে নীলার আর আমার মিলন বাধাহীন হওয়াতে আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারালাম ফলস্বরূপ নীলা গর্ভবতী হল ! বাবা আমার আর নীলার ভালোবাসার কথা শুনে একদিন হটাৎ করে নীলার সাথে আমার বিবাহের বাগদান সেরে ফেললেন ! দাদা এই সংবাদ শুনে বাবার সঙ্গে খুব ঝগড়া করল আর বাবাকে বললো তুমি এই বাগদান ভেঙে দাও নইলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব ! বাবা পুলিশে দাদার নাম ডায়রি করল ! পুলিশ এসে দাদার অবৈধ ব্যবসার জিনিস বাজেয়াপ্ত করলো ! দাদা জঙ্গলে পালিয়ে গেলো !পরে যখন সব টাকা ফুরিয়ে গেলো তখন বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বাড়ি ফেরত এলো, বাবা ওর নামে দায়ের করা মামলা তুলে নিলো ! তারপর বাবা আমার আর নীলার বিয়ের দিন স্থির করলো ! দাদা তখন আমার বিয়ের আগে ব্যাচেলার পার্টি (অবিবাহিতদের অনুষ্ঠান) এই ভূতুড়ে বাড়িতে আয়োজন করলো আর খুব মদ খেল !পার্টিৰ পর যখন সবাই চলে গেলো তখন দাদা আমার মাথাতে বন্দুক রেখে একটা সাদা কাগজে আমার দস্তখত করিয়ে নিলো, এরপর দাদার গুন্ডারা এসে আমাকে অজ্ঞান করে কোথাও বন্দি করে রাখল কেউ জানতে পারলনা, আর দাদা বাবাকে গিয়ে বললো বাদল সন্যাসী হয়ে হিমালয় চলে গেছে এই দেখ বাদলের চিঠি তোমার নামে ! বাবা তখন বাধ্য হয়ে সেই চিঠি নীলার বাবাকে দেখাল ! তখন নীলার বাবা দাদার সাথে নীলার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন আর সেই দিন দাদার সাথে নীলার বিয়ে হয়ে গেল !
এর পর বাবা একদিন নীলাকে বললো আমি তোমাকে এ বাড়িতে না আনলে তোমার আর আমার দুজনেরই প্রাণ যেত ! তুমি এখন শুধু আকাশের বিশ্বাস লাভ কর তার অফিসের কাজে ওকে সহায়তা করে কেননা আকাশ ইংরেজি লিখতে পড়তে জানে না আর হিসাব করতে পারেনা ! ওর সামনে,তুমি আমার সাথে কটু ব্যবহার কর তাহলে আকাশ তোমাকে বিশ্বাস করবে আর নিজের পরিকল্পনার কথা বলবে, বাদলকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, আর আমাকে কি করে মারবে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ, গ্যাং সদস্যদের নাম, তুমি চুপকরে সেই সদস্যদের মোবাইল নম্বর গুলো হাতে লিখে নিও ! তাছাড়া এই বাড়িতে কোন কোন কর্মচারী আকাশের জন্য আমাদের উপর নজর রাখছে ইত্যাদি !

এদিকে আকাশের গুন্ডারা আমাকে যে আদিবাসীর কাছে বন্দি করে রেখেছিল, তাকে আমার গলার হার দিয়ে বললাম দেখো বন্ধু তোমার সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নাই ! তুমি আমাকে তোমাদের মতো সাজে সাজিয়ে দাও আর আমাকে ছেড়ে দাও, নইলে আকাশ এসে কোনোদিন আমাকে মেরে ফেলবে আর পুলিশ কে বলবে তুমি আমাকে মেরেছ ! আদিবাসী আমার কোথায় রাজি হল আর সে সাজিয়ে দিয়ে আমাকে নদী পার করিয়ে দিল আমার হার সে নিলনা বলল ছোট বাবু আমি আপনাকে চিনি ! আমি বললাম তোমাকে জিজ্ঞেস করলে তুমি বোলো যে আমি জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছি ! আমি নৌকা থেকে নেমে ঘুরতে ঘুরতে নীলার বাড়িতে এসে পৌঁছালাম আর গুপ্ত পথে এই বাড়িতে এসে থাকতে লাগলাম ! এই বাড়িতে বাবার সব টাকা পয়সা গহনাগাঁটি লুকানো আছে, যাতে দাদা এই সম্পত্তি না নিতে পারে ! একদিন আমি নীলাকে বাপেরবাড়ি আসতে দেখলাম তখন আমি নীলাকে আমাদের সাংকেতিক ভাষাতে ডাকলাম তখন নীলা ছুটে আমার কাছে আসলো আমি তখন ওকে নিয়ে এই বাড়ির ভেতরে আসলাম আর সব ঘটনা ওকে বললাম ! নীলা আনন্দে আমাকে জড়িয়ে অনেক্ষন কাঁদলো আর বললো বাদল তুমি আমেক ক্ষমা করো আমার আর কোনো উপায় ছিলোনা আকাশ কে বিয়ে করা ছাড়া, তোমার সন্তান কে বাঁচিয়ে রাখবার জন্য আমাকে এই যাতনা সহ্য করতে হয়েছে ! আমি বললাম নীলা আমি তোমাকে আগের মতোই ভালোবাসি ! এই ঘটনাকে একটা দুর্ঘটনা মনে করে ভোলার চেষ্টা করো !এখন আমি আর তুমি দুজনে মিলে ওই দুষ্টু দাদাকে শাস্তি দেব ! নীলা বললো আমি কমল বাবুকে বলেছি তোমাকে খুঁজে বার করতে তাই আমরা এখন তিন জনে মিলে এই বিপদের সমাধান করবো ! কমলদা আমাকে বলেছেন আমি আর নীলা দুজনে মিলে আকাশের সব অপরাধ স্বীকারোক্তি বিস্তারিত ভাবে আলাদা আলাদা কাগজে লিখতে আর প্রতিটা অপরাধের প্রমান জোগাড় করতে, যেমন আমার সন্যাসী হওয়ার কথা দাদার হাতে লেখা আমার দস্তখত করা বাবার নাম চিঠি, বাবার লেখা দাদার বিরুদ্ধে কোর্টে নালিশ করা দরখাস্ত ইত্যাদি ! কাল লাঞ্চের পর যে কাগজে আকাশ আর আপনি দস্তখত করবেন তার ড্রাফট আজ রাতে কমলদা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করবেন ! সকালে দাদার কোর্টে যাবার কথা আছে ! তখন নীলা সব কর্মচারীদের দস্তখত জোগাড় করবে সাক্ষী ! আর একটা কথা এই যে বাবা মারা যান নি তিনি এই বাড়ির নিচের একটা ঘরে থাকেন ! আকাশ যেদিন বাবাকে মারবে বলে বিষ আনিয়ে ছিল নীলা সেই দিন বাবাকে ঠাকুরঘরের রাস্তা দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলো,আকাশ এসে বাবাকে অনেক খুঁজল কিন্তু পেলনা, সারা বাডি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যখন পেলোনা তখন চিতায় পড়লো, নীলা বলল আকাশকে,, বাবাকে ভূতে ধরেনি তো ? কদিন ধরে বাবা ভূত ভূত করে চেঁচাচ্ছিলো !দাদা বলেছিলো হতে পারে বাদলের ভূত এসে নিয়ে গেছে !


আমি বললাম বাদল তুমি খুব ভালো কাজ করেছো ! কাল সকালে আমি নীলার সঙ্গে দেখা করবো আর দুপুরে লাঞ্চের আগে নীলাকে বলব যে আকাশের সুরাপাত্র মদ জল না মিশিয়ে, আমাকে আর কমল কে শুধু জল দেবে ! আর সকালে বাবাকে নিয়ে তুমি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে [এফ. আই. আর]. করবে আর পুলিশ নিয়ে গাঁটের বাইরে জঙ্গলে লুকিয়ে থাকবে যাতে গেটের দারোয়ান না জানতে পারে ! আমাদের ডকুমেন্ট স্বাক্ষর হওয়ার পর নীলা ফ্যাক্স পাঠিয়ে দেয়ার পর আমাকে ইশারা করবে যে কাজ শেষ ! আমি তখন কমল কে মিস কল দেব তখন তোমরা দারোয়ান কে বন্দি করবে আর গেট খুলে ভেতরে চলে আসবে ! জলের পথ জলের বাইরে থাকবে আকাশের গাড়ী আসার পর !পরের দিন সব কাজ নির্বিঘ্নে সম্পাদন হলো ! আকাশ কে বন্দি করার পর উদিত নারায়ণ আকাশের সামনে আসলে পরে আকাশ বললো বাবা আমি অন্যায় করেছি আমাকে ক্ষমা করো আমাকে বাঁচাও ! আকাশের সাথে সাথে এককালে ওর পুরো গ্যাং এই অভিযানে ধরা পড়লো ! আর বাদলের ভূতের পার্টটাও শেষ হলো নীলার আকাশের সাথে বিবাহটা বেআইনি প্রমান হলো আর নীলার আর বাদলের ধূম ধাম করে বিবাহ হলো ! পাত্র-পাত্রী দুজনেই এসেছিলো আমাদের বিয়ের নেমন্তন্ন করতে ভিলাই !
















No comments:

Post a Comment