প্রীতির তপস্যা\
লেখক ড: প্রদীপ কুমার মৈত্র ২৬/০৫/১৮
বন্ধু গণ নমস্কার, আমি সেই সময় কথা কথা বলছি যখন কলেজে কো-এডুকেশন প্রারম্ভ হয়ে ছিল কিন্তু স্কুলে ছেলে মেয়েরা আলাদা আলাদা পড়তো ! মেয়েদের সংখ্যা কম হতো ! কিন্তু তার মধ্যেও প্রেম ভালোবাসা যে হতো না তা নয় ! মেয়েরা এই ব্যাপারে ছেলেদের থেকে একটু বেশি পরিপক্ক হতো সেই জন্য তারা সিনিয়র ছাত্রদের প্রতি কিংবা নুতন শিক্ষকদের বেশি পছন্দ করতো !
এবছর আমার MScর শেষ বছর ছিল ! উনিভার্সিটির বক্তৃতা হলগুলি বিশাল হতো আর তার দরজা ছিল খুব বড় এবং প্রশস্ত, একদিন আমি ক্লাস থেকে একটু অন্যমনস্ক ভাবেই বেরিয়ে আসছিলাম, তখন দরজার মুখে আমার একটি BSc তৃতীয় বছরের একটি সুন্দর এবং একটু স্থূলাকারের মেয়ের সাথে জোরে ধাক্কা লাগলো ! মেয়েটির হাতের বই খাতা এবং প্রজেক্টের বাস্কটি মাটিতে পড়ে গেলো এবং মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায় ! আমি মেয়েটির ক্লাসের ছাত্রদের বললাম, এই মেয়েটির সমস্ত জিনিস কুড়িয়ে নিয়ে আমার ল্যাবরেটরি তে নিয়ে রেখে দাও, আর আমি ওই ভারী মেয়েটাকে পাঞ্জা কোলে করে নিয়ে এসে একটা ল্যাবরেটরি টেবিলের ওপর শুইয়ে দিলাম ! ট্যাপ থেকে একটু জল এনে মেয়েটার মুখে ছিটিয়ে দিলাম সাথে সাথেই মেয়েটির জ্ঞান ফিরলো আর সে ভাঙা প্রজেক্টের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে লাগলো ! মেয়েটিকে আমি বললাম তোমার নাম কি ? সে বললো প্রীতি !
আমি ওকে আমার পরিচয় দিলাম বললাম আমার নাম প্রদীপ ! প্রীতি বললো স্যার আমি জানি আপনাকে তিন বছর ধরে দেখছি কি সুন্দর আপনার স্বাস্থ, আপনি আমার মতো একটা ভারী মেয়েকে তুলোর পুতুলের মতো উঠিয়ে নিয়ে আসলেন আমি তো ভয়ে আপনাকে জড়িয়ে ছিলাম ! আমি বললাম তুমিতো অজ্ঞান ছিলে ? সে বললো স্যার একটু একটু জ্ঞান ছিল ! মেয়েটি আবার কাঁদতে লাগলো আমি বললাম প্রীতি তুমি কাঁদছো কেন ? প্রীতি বললো স্যার আজকে আমার প্রজেক্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন আর আজ প্রজেক্ট না জমা দিলে নিগম স্যার আমার প্রজেক্টের মার্ক্স্ কেটে নেবেন আর আমি ফেল হয়ে যাবো ! আমি বললাম এরকম কিছু হবে না !তখন আমি ওর হাত ধরে নিগম স্যারের রুমে নিয়ে গেলাম ! তখনকার দিনে শিক্ষকরা ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের খুব সমীহ করতেন কেননা যখন ফার্স্ট ইয়ারের গাদা গাদা ছাত্ররা আসতো তাদের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্ররা কন্ট্রোল করতো আর যখন শিক্ষকরা ছুটিতে যেতেন তখন তাদের ক্লাস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্ররা ভাগা ভাগি করে নুতন ছাত্রদের কোর্স কমপ্লিট করতো ! আমি নিগম স্যার কে সব ঘটনা খুলে বললাম, নিগম স্যার বললো এই মেয়েটিকে কেন এনেছো ? তুমি বললেই আমি প্রীতি কে দুদিন সময় দিয়ে দিতাম !
আমি প্রীতিকে বললাম এবার হয়েছে তো ? তুমি ল্যাবে গিয়ে প্রজেক্ট তৈরী করো আমি আসছি !
আমি প্রীতি কে বললাম তুমি তোমার ক্লাসে যাও আমি এই প্রজেক্ট টা একলা তৈরী করতে পারবো ! কিন্তু প্রীতি নিজের ক্লাসে গেলোনা বরঞ্চ ওর বন্ধুদের বলেদিলো যে তার বাড়িতে যেন বলে দেয় যে প্রীতির প্রজেক্ট ভেঙে গেছে কাজ শেষ হতে দেরি হবে !
প্রজেক্ট তৈরী করতে প্রীতি আমাকে সাহায্য করছিলো তাই আটটার মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেলো !সাথে সাথে কাজ করতে করতে আমি প্রীতিকে খুব কাছ থেকে দেখলাম যে ও প্রকৃত সুন্দরী বড়ো বড়ো চোখ লম্বা চুল আর উজ্জ্বল গায়ের রং ! আমি প্রীতি কে বললাম প্রীতি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো কিছু মনে করবে না তো ? প্রীতিবোল্লো বলুন স্যার আমি কিছুই মনে করবো না ! আমি বললাম প্রীতি তোমার চোখ আর চুল বাঙালিদের মতো আর গায়ের রং পাঞ্জাবিদের মতো ! প্রীতি একটু লজ্জা পেলো বললো আমার বাবা পাঞ্জাবি আর মা বাঙালি !
আমি ওকে আমার পরিচয় দিলাম বললাম আমার নাম প্রদীপ ! প্রীতি বললো স্যার আমি জানি আপনাকে তিন বছর ধরে দেখছি কি সুন্দর আপনার স্বাস্থ, আপনি আমার মতো একটা ভারী মেয়েকে তুলোর পুতুলের মতো উঠিয়ে নিয়ে আসলেন আমি তো ভয়ে আপনাকে জড়িয়ে ছিলাম ! আমি বললাম তুমিতো অজ্ঞান ছিলে ? সে বললো স্যার একটু একটু জ্ঞান ছিল ! মেয়েটি আবার কাঁদতে লাগলো আমি বললাম প্রীতি তুমি কাঁদছো কেন ? প্রীতি বললো স্যার আজকে আমার প্রজেক্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন আর আজ প্রজেক্ট না জমা দিলে নিগম স্যার আমার প্রজেক্টের মার্ক্স্ কেটে নেবেন আর আমি ফেল হয়ে যাবো ! আমি বললাম এরকম কিছু হবে না !তখন আমি ওর হাত ধরে নিগম স্যারের রুমে নিয়ে গেলাম ! তখনকার দিনে শিক্ষকরা ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের খুব সমীহ করতেন কেননা যখন ফার্স্ট ইয়ারের গাদা গাদা ছাত্ররা আসতো তাদের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্ররা কন্ট্রোল করতো আর যখন শিক্ষকরা ছুটিতে যেতেন তখন তাদের ক্লাস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্ররা ভাগা ভাগি করে নুতন ছাত্রদের কোর্স কমপ্লিট করতো ! আমি নিগম স্যার কে সব ঘটনা খুলে বললাম, নিগম স্যার বললো এই মেয়েটিকে কেন এনেছো ? তুমি বললেই আমি প্রীতি কে দুদিন সময় দিয়ে দিতাম !
আমি প্রীতিকে বললাম এবার হয়েছে তো ? তুমি ল্যাবে গিয়ে প্রজেক্ট তৈরী করো আমি আসছি !
আমি প্রীতি কে বললাম তুমি তোমার ক্লাসে যাও আমি এই প্রজেক্ট টা একলা তৈরী করতে পারবো ! কিন্তু প্রীতি নিজের ক্লাসে গেলোনা বরঞ্চ ওর বন্ধুদের বলেদিলো যে তার বাড়িতে যেন বলে দেয় যে প্রীতির প্রজেক্ট ভেঙে গেছে কাজ শেষ হতে দেরি হবে !
প্রজেক্ট তৈরী করতে প্রীতি আমাকে সাহায্য করছিলো তাই আটটার মধ্যে কাজ শেষ হয়ে গেলো !সাথে সাথে কাজ করতে করতে আমি প্রীতিকে খুব কাছ থেকে দেখলাম যে ও প্রকৃত সুন্দরী বড়ো বড়ো চোখ লম্বা চুল আর উজ্জ্বল গায়ের রং ! আমি প্রীতি কে বললাম প্রীতি তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো কিছু মনে করবে না তো ? প্রীতিবোল্লো বলুন স্যার আমি কিছুই মনে করবো না ! আমি বললাম প্রীতি তোমার চোখ আর চুল বাঙালিদের মতো আর গায়ের রং পাঞ্জাবিদের মতো ! প্রীতি একটু লজ্জা পেলো বললো আমার বাবা পাঞ্জাবি আর মা বাঙালি !
আমি বললাম প্রীতি এবার তোমার সাইকেল টা নিয়ে এস আমি এই রাতে তোমাকে একলা ছাড়বোনা আমি তোমাকে বাড়ি পৌছেদিয়ে আমার বাড়ি যাবো ! প্রীতি ওর সাইকেল এনে বললো স্যার আমার সাইকেল পাংচার হয়ে গেছে ! আমি প্রীতি কে বললাম তোমার সাইকেল ল্যাবের ভেতরে রেখে দাও কাল সারিয়ে নিও ! তারপর আমি ল্যাবে তালা লাগিয়ে ওয়াচ ম্যান কে চাবি দিয়ে এসে প্রীতি কে বললাম প্রীতি তুমি আমার সাইকেলের কেরিয়ারে বসে যেতে পারবে তো ? প্রীতি বললো না স্যার পিছনে বসতে আমার ভয় করে, আমি সামনে বসবো আর গল্প করতে করতে যাবো ! অগত্যা আমি প্রীতিকে রডে বসিয়ে সাইকেলের চালাতে লাগলাম !সেদিন চাঁদনী রাত ছিল আর প্রীতিকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছিলো !ওর চুল বার বার আমার মুখে উড়ে এসে পড়ছিলো আমি এক হাত দিয়ে চুল সরাচ্ছিলাম আর এক হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে ছিলাম ! প্রীতির গা দিয়ে খুব সুন্দর একটা সেন্টের গন্ধ আসছিলো যা আমাকে মাতাল করছিলো ! প্রীতি খুব হাসছিলো আর আমার গলা এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ছিল !
আমার অবস্থা খুব শোচনীয় হয়ে আসছিলো আমার হাত পা কাঁপছিলো আর হটাৎ সাইকেলটা রাস্তার ধারেতে নেমে একটা ঝোপের নিচে এসে উল্টেগেল !আমি মাটিতে না পড়ে ঠিক প্রীতির বুকের ওপর পড়লাম আর প্রীতি আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলো আমার মনে নাই আমি কতক্ষন প্রীতির আলিঙ্গনে আবদ্ধ ছিলাম ! প্রীতির কথায় আমি আমার সম্বিৎ ফিরে পেলাম, প্রীতি বললো স্যার উঠুন কেউ এসে পড়বে ! আমি উঠে দাঁড়ালাম তখন প্রীতি শুয়ে শুয়ে নিজের হাত তুললো আমি ওকে টেনে তুললাম কিন্তু ও টাল সামলাতে না পেরে আমাকে জড়িয়ে ধরলো ! আমি আস্তে করে প্রীতির বন্ধন মুক্ত হলাম কিন্তু সাইকেল চালাতে পারছিলাম না ! আমরা দুজনে হাঁটতে লাগলাম ! কেউ কোনো কথা বলছিলাম না আমার খুব লজ্জা বোধ হচ্ছিলো !
প্রীতি আমাকে বললো স্যার আপনি একলা সাইকেল চালান আমার বাড়ি এখানথেকে কাছেই আমি চলে যাবো একলাই ! আমি বললাম চলো তোমাকে আর একটু এগিয়েদি !প্রীতির বাড়ি থেকে আমি সোজা নিজের বাড়ি এসে জামা কাপড় না ছেড়েই শুয়ে পড়লাম !কিছুতেই ঘুম আসছিলোনা,সারারাত খালি প্রীতির আলিঙ্গনের কথা মনে হচ্ছিলো ! ভয় হচ্ছিলো যদি প্রীতি আরও অগ্গ্রেসিভ হতো তাহলে তো একজন নাবালিকার সাথে না না আমাকে সাইকেল আর প্রীতি কে ফেলে ছুটে পালাতে হতো ! পরদিন আমি সাইকেল করে কলেজে যাচ্ছিলাম তখন রাস্তায় প্রীতির সাথে দেখা হলো ! প্রীতি বললো স্যার আপনি কলেজে যান আমি আসছি প্রজেক্টের বাস্কটা নিতে ! আমি বললাম না না আমি অন্য জাগায় যাচ্ছি তুমি তোমার সাইকেল আর প্রজেক্ট ল্যাববয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিও ! আমি কলেজে এসে ল্যাব বয় কে বললাম প্রীতির সাইকেলটার পাংচার সারিয়ে আনতে ! ল্যাব বয় বললো স্যার সাইকেলে কোনো পাংচার নাই, এই কথা শুনে আমার মনে হলো প্রীতি আমার সাথে ছলনা করছে ! আমি ল্যাব বয় কে বললাম প্রীতি আসলে ওকে প্রজেক্ট আর সাইকেল দিয়ে দিও ! এর পর আমি সোজা বয়েজ হোস্টেল গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ! এই ঘটনার পর আমি আর কোনো দিন প্রীতির সাথে দেখা করিনি ! কলেজে ফেয়ারবেলের সময় প্রীতি আমার সাথে দেখা করার অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি ওকে কোনো চান্স দিইনি, কিন্তু আমার কলেজে ছেড়ে চলে যাওয়ার দিন প্রীতি ধূমকেতুর মতো আমার ল্যাবে আসলো আর আমাকে বললো প্রদীপ আজ তোমাকে আমার সাথে কথা বলতেই হবে নইলে আমি ছাতে গিয়ে ওখান থেকে জাম্প দেব ! আমি একটু ভয় পেলাম আর প্রীতি কে বসতে বললাম আর জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে বলো ? প্রীতি বললো তুমি এতদিন আমার সাথে দেখা করোনি কেন ? আমি বললাম প্রীতি তুমি আমার সাথে ছলনা কেন করে ছিলে ? প্রীতি বললো তোমাকে পাওয়ার জন্য ! আমি তিন বছর ধরে শুধু তোমাকে কামনা করেছি কিন্তু তুমি কখনো আমার দিকে আকৃষ্ট হওনি, তাই তোমার চলে যাওয়ার আগে এক শেষ চেষ্টা করছি !
আমার অবস্থা খুব শোচনীয় হয়ে আসছিলো আমার হাত পা কাঁপছিলো আর হটাৎ সাইকেলটা রাস্তার ধারেতে নেমে একটা ঝোপের নিচে এসে উল্টেগেল !আমি মাটিতে না পড়ে ঠিক প্রীতির বুকের ওপর পড়লাম আর প্রীতি আমাকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরলো আমার মনে নাই আমি কতক্ষন প্রীতির আলিঙ্গনে আবদ্ধ ছিলাম ! প্রীতির কথায় আমি আমার সম্বিৎ ফিরে পেলাম, প্রীতি বললো স্যার উঠুন কেউ এসে পড়বে ! আমি উঠে দাঁড়ালাম তখন প্রীতি শুয়ে শুয়ে নিজের হাত তুললো আমি ওকে টেনে তুললাম কিন্তু ও টাল সামলাতে না পেরে আমাকে জড়িয়ে ধরলো ! আমি আস্তে করে প্রীতির বন্ধন মুক্ত হলাম কিন্তু সাইকেল চালাতে পারছিলাম না ! আমরা দুজনে হাঁটতে লাগলাম ! কেউ কোনো কথা বলছিলাম না আমার খুব লজ্জা বোধ হচ্ছিলো !
প্রীতি আমাকে বললো স্যার আপনি একলা সাইকেল চালান আমার বাড়ি এখানথেকে কাছেই আমি চলে যাবো একলাই ! আমি বললাম চলো তোমাকে আর একটু এগিয়েদি !প্রীতির বাড়ি থেকে আমি সোজা নিজের বাড়ি এসে জামা কাপড় না ছেড়েই শুয়ে পড়লাম !কিছুতেই ঘুম আসছিলোনা,সারারাত খালি প্রীতির আলিঙ্গনের কথা মনে হচ্ছিলো ! ভয় হচ্ছিলো যদি প্রীতি আরও অগ্গ্রেসিভ হতো তাহলে তো একজন নাবালিকার সাথে না না আমাকে সাইকেল আর প্রীতি কে ফেলে ছুটে পালাতে হতো ! পরদিন আমি সাইকেল করে কলেজে যাচ্ছিলাম তখন রাস্তায় প্রীতির সাথে দেখা হলো ! প্রীতি বললো স্যার আপনি কলেজে যান আমি আসছি প্রজেক্টের বাস্কটা নিতে ! আমি বললাম না না আমি অন্য জাগায় যাচ্ছি তুমি তোমার সাইকেল আর প্রজেক্ট ল্যাববয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিও ! আমি কলেজে এসে ল্যাব বয় কে বললাম প্রীতির সাইকেলটার পাংচার সারিয়ে আনতে ! ল্যাব বয় বললো স্যার সাইকেলে কোনো পাংচার নাই, এই কথা শুনে আমার মনে হলো প্রীতি আমার সাথে ছলনা করছে ! আমি ল্যাব বয় কে বললাম প্রীতি আসলে ওকে প্রজেক্ট আর সাইকেল দিয়ে দিও ! এর পর আমি সোজা বয়েজ হোস্টেল গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম ! এই ঘটনার পর আমি আর কোনো দিন প্রীতির সাথে দেখা করিনি ! কলেজে ফেয়ারবেলের সময় প্রীতি আমার সাথে দেখা করার অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমি ওকে কোনো চান্স দিইনি, কিন্তু আমার কলেজে ছেড়ে চলে যাওয়ার দিন প্রীতি ধূমকেতুর মতো আমার ল্যাবে আসলো আর আমাকে বললো প্রদীপ আজ তোমাকে আমার সাথে কথা বলতেই হবে নইলে আমি ছাতে গিয়ে ওখান থেকে জাম্প দেব ! আমি একটু ভয় পেলাম আর প্রীতি কে বসতে বললাম আর জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে বলো ? প্রীতি বললো তুমি এতদিন আমার সাথে দেখা করোনি কেন ? আমি বললাম প্রীতি তুমি আমার সাথে ছলনা কেন করে ছিলে ? প্রীতি বললো তোমাকে পাওয়ার জন্য ! আমি তিন বছর ধরে শুধু তোমাকে কামনা করেছি কিন্তু তুমি কখনো আমার দিকে আকৃষ্ট হওনি, তাই তোমার চলে যাওয়ার আগে এক শেষ চেষ্টা করছি !
এবার বলো,
সেই পূর্ণিমা রাতে তুমি আমার সাথে অমনি ভাবে জড়িয়ে কেন ছিলে ! তুমি জানো সেদিন কতবড় একটা দুর্ঘটনা হতে পারতো ? তুমি বৃথাই ভয় পাচ্ছ আমি তোমাকে তোমার
থেকে বেশি চিনি সেদিন কিছুই হতো না !
আমি বললাম ঠিক আছে এবার বলো আজ কেন এসেছো ?
প্রীতি বললো আমি আজ দুটো কারণে তোমার কাছে এসেছি
! প্রথম তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে কেননা তোমার সাথে আমি ছলনা করেছি ! আমার তোমার সাথে
ধাক্কা খাওয়া প্রজেক্ট বাস্ক ভেঙে যাওয়া এবং
অজ্ঞান হওয়া সাইকেলের পেছনে না বসা, এবং সাইকেল থেকে পড়ে যাওয়া সব আমার পরিকল্পনা ছিল
শুধু তোমার সঙ্গ পাওয়ার জন্যে তোমার মনের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা পুরুষ কে জাগানোর জন্যে
! আর দ্বিতীয় কথা
আমি তোমাকে ভালোবাসি আর তুমি যদি আমাকে পছন্দ করো
তাহলে আমি তোমার প্রতিশ্রুতি চাই যে তুমি আমাকে যথা সময় গ্রহণ করবে !
আমি বললাম প্রীতি,আমি তোমাকে এই ছেলেমানুষির জন্য
মন থেকে মার্জনা করছি ! আমি জানি তুমি একটি
অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী সব সময় ক্লাসে ফার্স্ট হও আর আমার বিশ্বাস তুমি BSc তেও উনিভার্সিটিতে
টপ করবে ! তোমার বয়স এখন কম তুমি মন দিয়ে পড়াশোনা করো,তুমি খুব সুন্দর দেখতে একটু ওয়েইট
কমাও তোমাকে আমার থেকে অনেক ভালো ছেলে পছন্দ করে নিয়ে যাবে ! আমি একজন সাধারণ ছাত্র,
তোমার আমার সাথে ঠিক মেল্ খাবে না !
প্রীতি এবার একটু রেগে গেলো বললো প্রদীপ আমি শুধু
তোমাকে ভালোবাসি আর শুধু তোমাকেই চাই আমি তোমার জন্য আমার সম্পূর্ণ কেরিয়ার নষ্ট করতে
পারি ! আমার সে শিক্ষার দরকার নাই যে আমাকে আমার প্রিয়তম থেকে দূরে করে দেবে ! তোমার
মধ্যে যা আছে তা আর কারো মধ্যে নাই ! আমি বললাম আমার মধ্যে এমন কি আছে ? প্রীতি বললো
তোমার রূপ, স্বাস্থ আর তোমার চরিত্র ! প্রীতি বললো এবার আমার
দ্বিতীয় অনুরোধের প্রতিক্রিয়া দাও ! আমি বললাম, তুমি
আমার ভেতরের পুরুষ মানুষ কে জাগিয়েছে কিন্তু আমাকে পেতে হলে তোমাকে MSc তেও টপ করতে
হবে আর ওজন কমাতে হবে এই তিন বছরে আর যদি আমি
আর কারো প্রেমে না পড়ি তবে ! প্রীতি হাত বাড়িয়ে বললো প্রমিস আমি বললাম প্রমিস !
এরপর প্রীতি আমার ঘরথেকে বেরিয়ে গেলো আর আমিও চাকরির খোঁজে এদিক ওদিক ঘুরতে লাগলাম আর সৌভাগ্য বসত একটা বড়ো ল্যাবরেটরিতে চাকরি জুটে গেলো ! আমি মন দিয়ে কাজ করতে লাগলাম ! কাজ করতে খুব ভালো লাগতো সেই জন্যে রোজ ১০/১২ ঘন্টা খেটে কিছু অরিজিনাল কাজ করে দেশ বিদেশে পেপার পাবলিশ করলাম আর পিএইচডির জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে দরকার হলো অরিজিনাল ডিগ্রী আর মার্কশীটের ! প্রীতির ব্যাপারে আমার একটু ভয় ভীতি থাকার দরুন আমি কনভোকেশনে যাইনি ! ইন্টারভিউয়ের আগে ডিগ্রী দরকার তাই আমি ইউনিভার্সিটি গিয়ে নিগম স্যারের সাথে দেখা করলাম ! অনেক গল্প গুজব হলো এরপর নিগম স্যার বললেন তুমি প্রীতির সাথে দেখা করেছো ? আমি বললাম সে কোথায় ? আমার সাথে ৩ বৎসর ওর কোনো যোগাযোগ নাই ! নিগাম স্যার বললো তুমি ওকে যা টার্গেট দিয়ে ছিলে প্রীতি সেই টার্গেটগুলো সম্পূর্ণ ভাবে পরিপূর্ণ করেছে ! প্রীতি বিএসসি এবং MSc তে টপ করেছে আর এখন নিজের ওজন কমাচ্ছে ! প্রীতি তোমার পাবলিকেশন দেখে পাব্লিশার কে চিঠি লিখেছে ও বলেছে সর্গ মর্ত পাতাল থেকে ও তোমাকে খুঁজে বার করবে ! ইউনিভার্সিটি ওর রেজাল্ট দেখে ওকে শিক্ষক নিযুক্ত করেছে ! প্রীতি গরমের ছুটিতে ওজন কমানের জন্য অত্যধিক পরিমানে খাওয়া কম করেছিল আর একদিন প্রীতি অজ্ঞান হয়ে যায় ! লোকে ধরাধরি করে ওকে হসপিটালে ভর্তি করেছে এখন প্রীতি ওখানেই আছে আর খালি তোমার নাম করছে ! এই খবর পেয়ে আমি ছুটতে ছুটতে হাসপাতাল গেলাম গিয়ে দেখলাম প্রীতি চোখ বন্দ করে আছে আর ওর দুই ছোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে ! হাতে গ্লুকোজ চড়ানো আছে !আমি আস্তে করে ওর মাথার কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম ! প্রীতির শরীরে মনেহলো কারেন্ট লেগেছে ও আমাকে না দেখেই বললো প্রদীপ তুমি এসেছো ? আমি বললাম এসেছি তোমাকে কথা দিয়েছি না এসে কি পারি ? প্রীতি বললো এবার আমি আবার খেতে শুরু করবো ! আমি বললাম খেয়ে খেয়ে আবার মুটকি হবো !লেখক ড: প্রদীপ কুমার মৈত্র ২৬/০৫/১৮