আধ্যাত্মিক প্রেম
ড:প্রদীপ কুমার মৈত্র – dipalyconsultants@hotmail.com
ড:প্রদীপ কুমার মৈত্র – dipalyconsultants@hotmail.com
সন্ত কবীর প্রেমের পরিভাষা দিয়েছেন
'घड़ी चढ़े, घड़ी उतरे, वह तो प्रेम न होय,
अघट प्रेम ही हृदय बसे, प्रेम कहिए सोय।'
[সত্যিকারের প্রেম যা কখনো বাড়ে কমে না, প্রেম মান-অপমানের তোয়াক্কা করে না, মানের প্রতি সদয় আর অপমানের প্রতি নির্দয় হয় না, এইরখম প্রেমে, সারা সংসার কেই নির্দোষ প্রতীত হয়, এই প্রেমে মানুষ মানুষের মধ্যেই ভগবান কে অনুভব করে থাকে] আধ্যাত্মিক বিশ্বাস (ইংরেজি: Faith)এটি এমন বিশ্বাসও হতে পারে যার কোন প্রত্যক্ষ তথ্যসূত্র বা প্রমাণ নেই।
বন্ধুগণ, আমি কিশোর বয়েস থেকে NCC র Jr এবং Sr ডিভিশনএর সাথে যুক্ত থাকার দরুন সুসাস্থের অধিকারী হয়েছিলাম, তার জন্য আমার মনের মধ্যে কোথাও একটু গর্ব বোধ ছিল, আমি কোনো সামাজিক কাজ কর্মর সাথে যুক্ত না থাকায়, আমার কাজ ছিল শুধু "কলেজ -পড়া –আর ঘুমানো" ! কলেজ থেকে ফেরার পর ক্লান্ত হয় যেতাম আর পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তাম, রাতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে খাওয়াতে হতো ! আমাদের কলেজ লাইব্রেরি তে প্রচুর উপন্যাস আর গল্পের বই কেনা হতো, আর পাড়ার দিদি বৌদিরা আমাকে বই এনে দিতে বলতেন ! আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম সেই জন্য আমার গল্পের বই এর প্রতি কোনো কৌতূহল ছিলোনা, হয়তো এই জন্য আমার সামাজিক জ্ঞান কম ছিল আর সাহিত্য,সংগীত, প্রেম সমবেদনা ইত্যাদির প্রতি আমার মনের মধ্যে কোনো অনুভূতি অঙ্কুরিত হয়ে ছিলোনা !
একদিন আমার সামনের বাড়ির বৌদি আমাকে ডেকে বললেন,প্রদীপ ভাই আজ আমার জন্য একটা বই লাইব্রেরি থেকে এনে দিতে পারবে ? আমি বললাম নিশ্চই, কিন্তু কলেজ গিয়ে বেমালুম ভুলে গেলাম, বাড়ি ফেরত আসতেই বৌদি চেপে ধরলো জিজ্ঞেস করলো বই কোথায় ? আমি বললাম বৌদি সরি, আমি একদম ভুলে গেছিলাম কালকে বই এনে আপনার বাড়িতে দিয়ে আসবো ! বৌদির পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের অনেক পুরোনো সম্বন্ধ ছিল তাই আমি ওনাকে মানা করতে পারলাম না ! পরের দিন আমি সোজা কলেজ থেকে এসে বই হাতে বৌদির বাড়ি গেলাম, কলবেল টিপতেই দরজা খুললো, আমি দেখলাম এক অপরূপ সুন্দরী মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আমি একটু থতমত খেয়ে বললাম আমি প্রদীপ সামনের বাড়িতে থাকি, বৌদি একটা বইয়ের জন্যে বলেছিলেন আমি সেই বইটা এনেছি ! মেয়েটা আমাকে মিষ্টি গলায় ভেতরে আসতে বলে আমাকে বললো আমার নাম মাধুরী আমি তোমার বৌদির ছোট বোন, দিদি বাজারে গিয়েছে ! আমি নমস্কার করলে সেও আমাকে প্রতি নমস্কার করলো ! আমি বই টা এগিয়ে দিতে মাধুরীর হাত আমার হাতে স্পর্শ হলো আর বই টা হাত থেকে পড়ে যেতে লাগলো ! মাধুরী বইটা সামলে নিলো কেন জানিনা আমি খুব ঘাবড়ে গিয়ে বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই বাড়ি ফেরত চলে এলাম !
সে রাত আমি ঘুমোতে পারলাম না, শুধু মাধুরীর হাতের স্পর্শ টা বার বার অনুভব করছিলাম! এরপর কিছু দিন পার হয় গেলো আমি আর ওই বাড়ির দিকে তাকাইনি ! একদিন সকালে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমার শরীর চর্চা করছিলাম, হটাৎ মাধুরী আমার ঘরে প্রবেশ করলো আর আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে রইলো আমি যেন একটা পটে আঁকা ছবি, আমি সরি বলে আমার শার্ট পরেনিলাম আর মাধুরীকে বললাম, আপনি, কিছু বলবেন কি ?
সে বললো না, হ্যা আপনি দেখতে খুব সুন্দর, আমার আপনাকে খুব ভালো লাগে, আপনি জানেন আমাদের মধ্যে একটা কমন জিনিস আছে, আমাদের দুজনের থুতনিতে একটা কালো তিল আছে ! আমি ভদ্রতার খাতিরে বললাম আপনিও খুব সুন্দর, মাধুরী একটু লজ্জা পেয়ে বললো দিদি বইটা ফেরত দিলো, বইটার ভেতরে একটা চিঠি আছে পরে ছিড়ে ফেলবেন !
আমার খুব ভয় করতে লাগলো, কেননা এর আগে আমাকে কোনো মেয়ে আমাকে কখনো চিঠি লেখেনি আর প্রেম নিবেদন করেনি ! আমি রক্ষণশীল ব্রাম্ভন পরিবারের ছেলে আর আমি আমার বাবাকে খুব ভয় পাই, বাবা জানতে পারলে আমাকে মেরেই ফেলবে নয়তো বাড়ি থেকে বের করে দেবে, মাধুরী চলে যাবার পর আমি বইটা খুললাম, দেখলাম ভেতরে একটা সুন্দর অক্ষরে লেখা সুগন্ধি চিঠি, তাতে লেখা ছিল;
মান্যবরেষু
আপনি যেদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন আপনাকে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, আমি আজ পর্যন্ত আপনার মতো সুপুরুষ কাউকে দেখিনি বা চিন্তা করিনি, যদি আপনি আমাকে পছন্দ করে থাকেন তো জানাবেন,আসায় রইলাম !
ইতি মাধুরী
'घड़ी चढ़े, घड़ी उतरे, वह तो प्रेम न होय,
अघट प्रेम ही हृदय बसे, प्रेम कहिए सोय।'
[সত্যিকারের প্রেম যা কখনো বাড়ে কমে না, প্রেম মান-অপমানের তোয়াক্কা করে না, মানের প্রতি সদয় আর অপমানের প্রতি নির্দয় হয় না, এইরখম প্রেমে, সারা সংসার কেই নির্দোষ প্রতীত হয়, এই প্রেমে মানুষ মানুষের মধ্যেই ভগবান কে অনুভব করে থাকে] আধ্যাত্মিক বিশ্বাস (ইংরেজি: Faith)এটি এমন বিশ্বাসও হতে পারে যার কোন প্রত্যক্ষ তথ্যসূত্র বা প্রমাণ নেই।
বন্ধুগণ, আমি কিশোর বয়েস থেকে NCC র Jr এবং Sr ডিভিশনএর সাথে যুক্ত থাকার দরুন সুসাস্থের অধিকারী হয়েছিলাম, তার জন্য আমার মনের মধ্যে কোথাও একটু গর্ব বোধ ছিল, আমি কোনো সামাজিক কাজ কর্মর সাথে যুক্ত না থাকায়, আমার কাজ ছিল শুধু "কলেজ -পড়া –আর ঘুমানো" ! কলেজ থেকে ফেরার পর ক্লান্ত হয় যেতাম আর পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়তাম, রাতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে খাওয়াতে হতো ! আমাদের কলেজ লাইব্রেরি তে প্রচুর উপন্যাস আর গল্পের বই কেনা হতো, আর পাড়ার দিদি বৌদিরা আমাকে বই এনে দিতে বলতেন ! আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম সেই জন্য আমার গল্পের বই এর প্রতি কোনো কৌতূহল ছিলোনা, হয়তো এই জন্য আমার সামাজিক জ্ঞান কম ছিল আর সাহিত্য,সংগীত, প্রেম সমবেদনা ইত্যাদির প্রতি আমার মনের মধ্যে কোনো অনুভূতি অঙ্কুরিত হয়ে ছিলোনা !
একদিন আমার সামনের বাড়ির বৌদি আমাকে ডেকে বললেন,প্রদীপ ভাই আজ আমার জন্য একটা বই লাইব্রেরি থেকে এনে দিতে পারবে ? আমি বললাম নিশ্চই, কিন্তু কলেজ গিয়ে বেমালুম ভুলে গেলাম, বাড়ি ফেরত আসতেই বৌদি চেপে ধরলো জিজ্ঞেস করলো বই কোথায় ? আমি বললাম বৌদি সরি, আমি একদম ভুলে গেছিলাম কালকে বই এনে আপনার বাড়িতে দিয়ে আসবো ! বৌদির পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের অনেক পুরোনো সম্বন্ধ ছিল তাই আমি ওনাকে মানা করতে পারলাম না ! পরের দিন আমি সোজা কলেজ থেকে এসে বই হাতে বৌদির বাড়ি গেলাম, কলবেল টিপতেই দরজা খুললো, আমি দেখলাম এক অপরূপ সুন্দরী মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আমি একটু থতমত খেয়ে বললাম আমি প্রদীপ সামনের বাড়িতে থাকি, বৌদি একটা বইয়ের জন্যে বলেছিলেন আমি সেই বইটা এনেছি ! মেয়েটা আমাকে মিষ্টি গলায় ভেতরে আসতে বলে আমাকে বললো আমার নাম মাধুরী আমি তোমার বৌদির ছোট বোন, দিদি বাজারে গিয়েছে ! আমি নমস্কার করলে সেও আমাকে প্রতি নমস্কার করলো ! আমি বই টা এগিয়ে দিতে মাধুরীর হাত আমার হাতে স্পর্শ হলো আর বই টা হাত থেকে পড়ে যেতে লাগলো ! মাধুরী বইটা সামলে নিলো কেন জানিনা আমি খুব ঘাবড়ে গিয়ে বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই বাড়ি ফেরত চলে এলাম !
সে রাত আমি ঘুমোতে পারলাম না, শুধু মাধুরীর হাতের স্পর্শ টা বার বার অনুভব করছিলাম! এরপর কিছু দিন পার হয় গেলো আমি আর ওই বাড়ির দিকে তাকাইনি ! একদিন সকালে আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমার শরীর চর্চা করছিলাম, হটাৎ মাধুরী আমার ঘরে প্রবেশ করলো আর আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে রইলো আমি যেন একটা পটে আঁকা ছবি, আমি সরি বলে আমার শার্ট পরেনিলাম আর মাধুরীকে বললাম, আপনি, কিছু বলবেন কি ?
সে বললো না, হ্যা আপনি দেখতে খুব সুন্দর, আমার আপনাকে খুব ভালো লাগে, আপনি জানেন আমাদের মধ্যে একটা কমন জিনিস আছে, আমাদের দুজনের থুতনিতে একটা কালো তিল আছে ! আমি ভদ্রতার খাতিরে বললাম আপনিও খুব সুন্দর, মাধুরী একটু লজ্জা পেয়ে বললো দিদি বইটা ফেরত দিলো, বইটার ভেতরে একটা চিঠি আছে পরে ছিড়ে ফেলবেন !
আমার খুব ভয় করতে লাগলো, কেননা এর আগে আমাকে কোনো মেয়ে আমাকে কখনো চিঠি লেখেনি আর প্রেম নিবেদন করেনি ! আমি রক্ষণশীল ব্রাম্ভন পরিবারের ছেলে আর আমি আমার বাবাকে খুব ভয় পাই, বাবা জানতে পারলে আমাকে মেরেই ফেলবে নয়তো বাড়ি থেকে বের করে দেবে, মাধুরী চলে যাবার পর আমি বইটা খুললাম, দেখলাম ভেতরে একটা সুন্দর অক্ষরে লেখা সুগন্ধি চিঠি, তাতে লেখা ছিল;
মান্যবরেষু
আপনি যেদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন আপনাকে দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, আমি আজ পর্যন্ত আপনার মতো সুপুরুষ কাউকে দেখিনি বা চিন্তা করিনি, যদি আপনি আমাকে পছন্দ করে থাকেন তো জানাবেন,আসায় রইলাম !
ইতি মাধুরী
আমি চিঠি পড়বার পর ভাবতে লাগলাম এ কিরখম মেয়ে মাধুরী, চিনিনা,জানিনা কেন আমাকে এরখম প্রস্তাব দিচ্ছে, আমি রাতে ঘুমাতে পারলাম না, তখন আমার সেই শেয়ালের গল্পের কথা মনে পড়লো যে রুটি মুখে এক কাক কে বলেছিলো "তুমি কি সুন্দর গান করো" মাধুরী নিশ্চয় আমাকে কোনো বিপদে ফেলতে চাইছে, তার পরে ভাবলাম বৌদির বোন এত সুন্দর দেখতে এতো খারাপ হতে পারেনা !
পরের দিন যখন আমি কলেজ যাওয়ার জন্যে বাড়ি থেকে বেরোলাম তখন আড়চোখে দেখলাম মাধুরী জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওর চোখ বাঁচিয়ে কলেজ চলে গেলাম, আর যেতেই খবর পেলাম আজ NCC উইন্টার ক্যাম্পএর জন্য রওনা হতে হবে, ক্যাম্প প্রায় এক মাস ধরে চললো তার পর C সার্টিফিকেটএর পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরলাম, বাড়িতে এসে মাধুরীর কথা মনে পড়লো ভাবলাম আমার বয়েস কম এটা আসক্তি হতে পারে, প্রেম হতে পারে না !
পরের দিন যখন আমি কলেজ যাওয়ার জন্যে বাড়ি থেকে বেরোলাম তখন আড়চোখে দেখলাম মাধুরী জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওর চোখ বাঁচিয়ে কলেজ চলে গেলাম, আর যেতেই খবর পেলাম আজ NCC উইন্টার ক্যাম্পএর জন্য রওনা হতে হবে, ক্যাম্প প্রায় এক মাস ধরে চললো তার পর C সার্টিফিকেটএর পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরলাম, বাড়িতে এসে মাধুরীর কথা মনে পড়লো ভাবলাম আমার বয়েস কম এটা আসক্তি হতে পারে, প্রেম হতে পারে না !
কিছুদিন পর বৌদি এলো বৌদি কে দেখে আমার গা হীম হয়ে গেলো ভাবলাম মাধুরী কিছু বলেনি তো ? আমার ঘরে এসে বৌদি বললো কিছু বই আনতে হবে ঠাকুরপো, আমি বললাম বৌদি আমার নাম ছেড়ে টাইটেল ধরে ডাকছো কেন বৌদি বললো এখন তুমি বড় হয়েছে নাম ধরে ডাকা উচিত হবে না !
হটাৎ আমার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলো বৌদি মাধুরী চলে গেছে ? বৌদি বললো হ্যাঁ, তুমি ওকে চেনো নাকি ?
আমি বললাম হ্যাঁ বৌদি আমি ওর সাথে দুদিন মাত্র সাক্ষাৎ করেছি, তবে ও আমাকে খুব ভালো ছেলের সার্টিফিকেট দিয়েছে !
বৌদি বললো মাধুরীর IAS পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে ইন্টারভিউ দিতে গেছে, আমি বললাম বৌদি তুমি ওকে আমার শুভেচ্ছা জানিও, বৌদি বললো এতো ভাব হয় গেছে জানতাম না ? তাই মাধুরী যাওয়ার সময় খুব কাঁদছিলো, আমি বললাম কেন কাঁদছিলো ?
বৌদি বললো হয়তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলো !
আমি বললাম কি যে বলো বৌদি কোথায় সুন্দরী মাধুরী IAS অফিসার আর আমি এখনো বেকার আর ছোট, বৌদি বললো তুমি এখন ২১বছরের আর মাধুরী ২০ বছরের এখন বলো কে ছোট ?
বৌদি চলে যাওয়ার পর আমি মাধুরীর কথা ভাবতে লাগলাম,নিজেকে কঠোর আর সমবেদনাহীন মনে হতে লাগলো !
হটাৎ আমার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলো বৌদি মাধুরী চলে গেছে ? বৌদি বললো হ্যাঁ, তুমি ওকে চেনো নাকি ?
আমি বললাম হ্যাঁ বৌদি আমি ওর সাথে দুদিন মাত্র সাক্ষাৎ করেছি, তবে ও আমাকে খুব ভালো ছেলের সার্টিফিকেট দিয়েছে !
বৌদি বললো মাধুরীর IAS পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে ইন্টারভিউ দিতে গেছে, আমি বললাম বৌদি তুমি ওকে আমার শুভেচ্ছা জানিও, বৌদি বললো এতো ভাব হয় গেছে জানতাম না ? তাই মাধুরী যাওয়ার সময় খুব কাঁদছিলো, আমি বললাম কেন কাঁদছিলো ?
বৌদি বললো হয়তো তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলো !
আমি বললাম কি যে বলো বৌদি কোথায় সুন্দরী মাধুরী IAS অফিসার আর আমি এখনো বেকার আর ছোট, বৌদি বললো তুমি এখন ২১বছরের আর মাধুরী ২০ বছরের এখন বলো কে ছোট ?
বৌদি চলে যাওয়ার পর আমি মাধুরীর কথা ভাবতে লাগলাম,নিজেকে কঠোর আর সমবেদনাহীন মনে হতে লাগলো !
এরপর আমার পড়াশোনা শেষ হলো আর আসানসোলের কাছে একটা চাকরি জুট গেলো ALUCOIN নামএর একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে !এরপর অনেক সময় কেটে গেলো, মাধুরীর কথা আমি ভুলে গেলাম ! ইতিমধ্যে আমার আমার বিয়ে হলো আর আমি দুটি সুন্দর সন্তানের বাবা হয় গেলাম ! আমার স্ত্রী কলকাতা ইউনিভার্সিটির স্নাতক ছিল আর পুরো সংসারী মেয়ে হওয়ার দরুন আমাকে একটা সংবেদনহীন মূর্তি থেকে সংসারী পতি,পিতা,এবং মানুষে পরিবর্তন করতে সক্ষম হলো, আমি ভালোবাসতে শিখলাম, কলা, সংগীত এবং বই পড়ার রুচি আয়ত্ত করলাম ! আমার স্ত্রী আমার সব কথা শুনতো যদি তা উপযুক্ত হতো তবে, আমাদের মধ্যে ঝগড়াও হতো কিন্তু বন্ধুর মতো ঝগড়া হতো আবার ভাব হতে দেরি হতো না, আমার কোনো বন্ধু বান্ধব ছিলনা আমার স্ত্রী আমার বন্ধু ছিল আর আমরা সবসময় একসাথে থাকতাম, বছর চারেক পর আমি BALCO তে চাকরি পেয়ে গেলাম আর কোরবা চলে এলাম !
আমি BALCOকেই আমার স্থায়ী কর্মস্থল ঠিক করলাম, কেননা BALCO ম্যানেজমেন্ট আমার অস্তিত্ব কে স্বীকার করে আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছিল, সব ঠিক ঠাক চলছিল, সন ১৯৮০র দশকে একবার হটাৎ আমাদের CMD আমাকে আর্জেন্ট কাজের জন্য দিল্লি ডেকে পাঠালেন !
এয়ারপোর্ট থেকে কোম্পানীর গাড়ি আমাকে হেড অফিস না নিয়ে গিয়ে আমাকে সোজা CMDর বাসস্থানে পৌঁছে দিলো, চেয়ারম্যান আমাকে বললেন Dr Maitra আপনাকে সেক্রেটারিয়েটএ একটা প্রেসেন্টেশন দিতে হবে আমার বদলে ! BALCO, মেশিনারি ইম্পোর্ট করতে চাইছে ফ্রি অফ কস্ট UK. থেকে ! এখন আমাদের প্রতিপক্ষ কোম্পানিগুলি প্রোটেস্ট করেছে যে মেশিনারি ইম্পোর্ট করবার অধিকার শুধু একলা BALCOর কেন হবে, আমি কোম্পানীর ডিরেক্টরদেরও বলিনি এই প্রেসেন্টেশনএর কথা কেননা, যে কোনো লোক টাকা ঘুষ নিয়ে প্রজেক্ট টাকে ড্রপ করতে পারে ! আমি, সেক্রেটারি আর এখন আপনি ছাড়া কেউ এই প্রজেক্ট ক্রাইসিসএর ব্যাপারে কিছু জানেনা ! আপনাকে বড়ো বড়ো কোম্পানির সঙ্গে লড়তে হবে, আমি আপনার সাথে কোরবা তে কাজ করেছি আমার সম্পূর্ণ আস্থা আপনার উপর আছে, ওরা আমাকে থ্রেট করছে কিন্তু আমি জানি আপনার মতো স্ট্রং লোক কে ওরা কিছুতেই ডাউন করতে পারবে না, আপনি এই কাজ CMD হয়ে করবেন ! আমি বললাম স্যার আপনি যখন কোরবা তে ছিলেন তখন আমরা ভেতরের আর বাইরের দুই ফ্রন্টএ লড়াই করেছি, এখানে তো একটাই ফ্রন্ট আর আমাদের কাছে সরকারের ব্যাকিঙও আছে আমরা নিশ্চয় জিতবো !
আমি বসে বসে সব পেপার পড়ে নিয়ে প্রেসেন্টেশন তৈরী করলাম কেসহিস্ট্রি দেখে বুঝতে পারলাম এতে একটা আইনএর ফাক আছে, আমাদের প্রতিপক্ষ সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকতে চেষ্টা করছে! প্রসঙ্গক্রমে আমার এক বিশেষ বন্ধু দিল্লি তে ডিপার্টমেন্ট অফ লিগেল আফিয়ার (Min of L&J) কার্যরত ছিল ! আমাদের কোম্পানি তে ওর ভাই কাজ করতো সেই সূত্রে আলাপ হয় ছিল, আমি কোরবা তে ফোন করে ল অফিসার এর বাড়ির এড্রেস আর ফোন নম্বর জোগাড় করলাম, তারপর তার বাড়ি তে হানা দিলাম, আর আইনের ঘোর-প্যাঁচ গুলি সুষ্ঠ ভাবে বুঝে প্রেসেন্টেশন এর অন্তর্ভুক্ত করলাম!
পরের দিন ২ ঘন্টা আগে অফিস গিয়ে আমি আর CMD একবার বক্তৃতা অনুশীলন করলাম!
সেক্রেটারিয়েটএ “বন্ধ-দরজা” কনফেরেন্স ছিল সবাইকে ৫ মিনিট করে সময় দেয়া হলো তার পর প্রশ্নোত্তর হবে, কনফারেন্স চেয়ারপারসন কোনো মহিলা ছিলেন, কিন্তু ওনার চোখের উজ্জ্বলতা দেখে খুব বুদ্ধিমতী মহিলা মনে হচ্ছিলো, সরকারি কোম্পানি হওয়ার দরুন আমার প্রেসেন্টেশন সবার শেষে ছিল ! প্রেসেন্টেশন চলতে থাকলো আর আমি সবার দুর্বল আর শক্তিশালী পয়েন্টস এর সারমর্ম তৈরি করে ফেললাম আর টাইপ করতে দিয়ে আসলাম ! আমার পালা আসবার পরে আমি পোডিয়ামএর সামনে দাঁড়িয়ে ডেলিগেটেদের বললাম CMD একটু অসুস্থ আছেন সঙ্গে সঙ্গে ম্যাডাম বললেন ক্যারিঅন (চালাইয়া যাত্তয়ার জন্য নির্দেশ) ! আমি সবাই কে অভিবাদন করে আমার প্রেসেন্টেশন (বর্ণনা) আরম্ভ করলাম তারপর এক এক করে প্রতিপক্ষের দুর্বল পয়েন্টস গুলো কে তুখোড় বাক্যের দ্বারা ধুয়ে দিলাম তার পর স্ট্রং পয়েন্টস গুলো কে এক এক করে ন্যস্ত নাবুদ করলাম ! ইতিমধ্যে আমার টাইপ করা পেপার এসে গেলো সেটা সাবমিট করলাম ! ম্যাডাম প্রত্যেক কে তাদের পয়েন্টস রিপিট করলেন ! প্রশ্নোত্তর এর সময় সবাই বললো এই মাল পেলে তারা সরকার কে বেশি ট্যাক্স দিতে থাকবে ! আমি বললাম ম্যাডাম আমাদের প্রতিপক্ষরা ভুলে গিয়েছেন যে BALCO একটা সর্বজনীক প্রতিষ্ঠান আর এই কোম্পানির সাথে প্রত্যেক ভারত বাসীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে সেইজন্য কিছু মুষ্ঠিমেয় প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্য সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কে বাদ দেওয়া যেতে পারেনা ! উপরন্ত ইন্দো-যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বের চুক্তি অনুযায়ী এই উপাদান একমাত্র ভারত সরকারের আন্ডারটেকিং দ্বারা ব্যবহার করা সম্ভব ! সর্বোপরী BALCO সরকার কে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে এই মাল পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে BALCOর যত জমা হওয়া ক্ষতি আছে সব শোধ করে দেওয়া হবে! এতেই বাজি মাত হয় গেলো, ম্যাডাম চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ক্লাপ করলেন আর বললেন , এক্সাক্টলি আমি এই কমিটমেন্ট টা BALCO থেকে চাইছিলাম !
সব ঠান্ডা হতেই ম্যাডাম আমার হাত থেকে ফাইল চেয়ে নিয়ে প্রপোসাল অপ্প্রুভড লিখে দস্তখত করলেন আর আমাকে কংগ্রাচুলেট করলেন ! কিন্তু যেই তিনি আমার মুখের দিকে তাকালেন একেবারে স্তম্ভিত হয় গেলেন আর নিজের চেম্বারএ চলে গেলেন, আমার মনে হচ্ছিলো মহিলা কে কোথাও যেন দেখেছি ! CMD সায়েব বাইরে থেকে সব দেখছিলেন তিনি ভেতরে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন আর বললেন আপনি আমার সন্মান রেখেছেন ! সবাই জিজ্ঞেস করছিলো কে এই ভদ্রলোক আগে কেন আসেননি ! CMD কৌতুক করে বললেন RAW (রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং, প্রধান ইন্টেলিজেন্স এজেন্সী) থেকে এসেছেন !
আমি BALCOকেই আমার স্থায়ী কর্মস্থল ঠিক করলাম, কেননা BALCO ম্যানেজমেন্ট আমার অস্তিত্ব কে স্বীকার করে আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছিল, সব ঠিক ঠাক চলছিল, সন ১৯৮০র দশকে একবার হটাৎ আমাদের CMD আমাকে আর্জেন্ট কাজের জন্য দিল্লি ডেকে পাঠালেন !
এয়ারপোর্ট থেকে কোম্পানীর গাড়ি আমাকে হেড অফিস না নিয়ে গিয়ে আমাকে সোজা CMDর বাসস্থানে পৌঁছে দিলো, চেয়ারম্যান আমাকে বললেন Dr Maitra আপনাকে সেক্রেটারিয়েটএ একটা প্রেসেন্টেশন দিতে হবে আমার বদলে ! BALCO, মেশিনারি ইম্পোর্ট করতে চাইছে ফ্রি অফ কস্ট UK. থেকে ! এখন আমাদের প্রতিপক্ষ কোম্পানিগুলি প্রোটেস্ট করেছে যে মেশিনারি ইম্পোর্ট করবার অধিকার শুধু একলা BALCOর কেন হবে, আমি কোম্পানীর ডিরেক্টরদেরও বলিনি এই প্রেসেন্টেশনএর কথা কেননা, যে কোনো লোক টাকা ঘুষ নিয়ে প্রজেক্ট টাকে ড্রপ করতে পারে ! আমি, সেক্রেটারি আর এখন আপনি ছাড়া কেউ এই প্রজেক্ট ক্রাইসিসএর ব্যাপারে কিছু জানেনা ! আপনাকে বড়ো বড়ো কোম্পানির সঙ্গে লড়তে হবে, আমি আপনার সাথে কোরবা তে কাজ করেছি আমার সম্পূর্ণ আস্থা আপনার উপর আছে, ওরা আমাকে থ্রেট করছে কিন্তু আমি জানি আপনার মতো স্ট্রং লোক কে ওরা কিছুতেই ডাউন করতে পারবে না, আপনি এই কাজ CMD হয়ে করবেন ! আমি বললাম স্যার আপনি যখন কোরবা তে ছিলেন তখন আমরা ভেতরের আর বাইরের দুই ফ্রন্টএ লড়াই করেছি, এখানে তো একটাই ফ্রন্ট আর আমাদের কাছে সরকারের ব্যাকিঙও আছে আমরা নিশ্চয় জিতবো !
আমি বসে বসে সব পেপার পড়ে নিয়ে প্রেসেন্টেশন তৈরী করলাম কেসহিস্ট্রি দেখে বুঝতে পারলাম এতে একটা আইনএর ফাক আছে, আমাদের প্রতিপক্ষ সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকতে চেষ্টা করছে! প্রসঙ্গক্রমে আমার এক বিশেষ বন্ধু দিল্লি তে ডিপার্টমেন্ট অফ লিগেল আফিয়ার (Min of L&J) কার্যরত ছিল ! আমাদের কোম্পানি তে ওর ভাই কাজ করতো সেই সূত্রে আলাপ হয় ছিল, আমি কোরবা তে ফোন করে ল অফিসার এর বাড়ির এড্রেস আর ফোন নম্বর জোগাড় করলাম, তারপর তার বাড়ি তে হানা দিলাম, আর আইনের ঘোর-প্যাঁচ গুলি সুষ্ঠ ভাবে বুঝে প্রেসেন্টেশন এর অন্তর্ভুক্ত করলাম!
পরের দিন ২ ঘন্টা আগে অফিস গিয়ে আমি আর CMD একবার বক্তৃতা অনুশীলন করলাম!
সেক্রেটারিয়েটএ “বন্ধ-দরজা” কনফেরেন্স ছিল সবাইকে ৫ মিনিট করে সময় দেয়া হলো তার পর প্রশ্নোত্তর হবে, কনফারেন্স চেয়ারপারসন কোনো মহিলা ছিলেন, কিন্তু ওনার চোখের উজ্জ্বলতা দেখে খুব বুদ্ধিমতী মহিলা মনে হচ্ছিলো, সরকারি কোম্পানি হওয়ার দরুন আমার প্রেসেন্টেশন সবার শেষে ছিল ! প্রেসেন্টেশন চলতে থাকলো আর আমি সবার দুর্বল আর শক্তিশালী পয়েন্টস এর সারমর্ম তৈরি করে ফেললাম আর টাইপ করতে দিয়ে আসলাম ! আমার পালা আসবার পরে আমি পোডিয়ামএর সামনে দাঁড়িয়ে ডেলিগেটেদের বললাম CMD একটু অসুস্থ আছেন সঙ্গে সঙ্গে ম্যাডাম বললেন ক্যারিঅন (চালাইয়া যাত্তয়ার জন্য নির্দেশ) ! আমি সবাই কে অভিবাদন করে আমার প্রেসেন্টেশন (বর্ণনা) আরম্ভ করলাম তারপর এক এক করে প্রতিপক্ষের দুর্বল পয়েন্টস গুলো কে তুখোড় বাক্যের দ্বারা ধুয়ে দিলাম তার পর স্ট্রং পয়েন্টস গুলো কে এক এক করে ন্যস্ত নাবুদ করলাম ! ইতিমধ্যে আমার টাইপ করা পেপার এসে গেলো সেটা সাবমিট করলাম ! ম্যাডাম প্রত্যেক কে তাদের পয়েন্টস রিপিট করলেন ! প্রশ্নোত্তর এর সময় সবাই বললো এই মাল পেলে তারা সরকার কে বেশি ট্যাক্স দিতে থাকবে ! আমি বললাম ম্যাডাম আমাদের প্রতিপক্ষরা ভুলে গিয়েছেন যে BALCO একটা সর্বজনীক প্রতিষ্ঠান আর এই কোম্পানির সাথে প্রত্যেক ভারত বাসীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে সেইজন্য কিছু মুষ্ঠিমেয় প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্য সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন কে বাদ দেওয়া যেতে পারেনা ! উপরন্ত ইন্দো-যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বের চুক্তি অনুযায়ী এই উপাদান একমাত্র ভারত সরকারের আন্ডারটেকিং দ্বারা ব্যবহার করা সম্ভব ! সর্বোপরী BALCO সরকার কে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে এই মাল পাওয়ার ২ বছরের মধ্যে BALCOর যত জমা হওয়া ক্ষতি আছে সব শোধ করে দেওয়া হবে! এতেই বাজি মাত হয় গেলো, ম্যাডাম চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ক্লাপ করলেন আর বললেন , এক্সাক্টলি আমি এই কমিটমেন্ট টা BALCO থেকে চাইছিলাম !
সব ঠান্ডা হতেই ম্যাডাম আমার হাত থেকে ফাইল চেয়ে নিয়ে প্রপোসাল অপ্প্রুভড লিখে দস্তখত করলেন আর আমাকে কংগ্রাচুলেট করলেন ! কিন্তু যেই তিনি আমার মুখের দিকে তাকালেন একেবারে স্তম্ভিত হয় গেলেন আর নিজের চেম্বারএ চলে গেলেন, আমার মনে হচ্ছিলো মহিলা কে কোথাও যেন দেখেছি ! CMD সায়েব বাইরে থেকে সব দেখছিলেন তিনি ভেতরে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন আর বললেন আপনি আমার সন্মান রেখেছেন ! সবাই জিজ্ঞেস করছিলো কে এই ভদ্রলোক আগে কেন আসেননি ! CMD কৌতুক করে বললেন RAW (রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং, প্রধান ইন্টেলিজেন্স এজেন্সী) থেকে এসেছেন !
আমরা বাইরে বসে সেলিব্রেট করছিলাম এমন সময় ম্যাডাম এর পিওন এসে বললো Dr সাহেব কে ম্যাডাম ডাকছেন শুনে তো CMD সাহেব আবার চিন্তায় পড়লেন, বললেন যান দেখুন আবার কে বাদ সাধলো, আমি বললাম যখন সই হয়ে গেছে তখন আর কেউ কিছু করতে পারবেনা ! আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন !
আমি ম্যাডাম এর চেম্বারে ঢুকতেই উনি স্টাফ কে বললেন আমি না বললে কাউকে ভেতরে আসতে দেবে না
ম্যাডাম আমাকে বসতে অনুরোধ করলেন ! তারপর বললেন ডাক্তার সায়েব চিনতে পারলেন আমাকে ?
আমি সন্মান পূর্বক বললাম না ম্যাডাম, কিন্তু মনে হচ্ছে কোথাও যেন দেখেছি, হয়তো স্মৃতির অন্তরালে আছে,
ম্যাডাম বললেন আমি মাধুরী, আমি বললাম হ্যাঁ ম্যাডাম ! এবার চিনতে পারলাম- ! উনি বললেন ম্যাডাম নয় মাধুরী !
আমি বললাম মাধুরী ম্যাডাম
উনি বললেন শুধু মাধুরী আমি তোমার থেকে ছোট
মাধুরী বললো আমি তোমাকে প্রথমেই চিনতেপেরেছিলাম তবে কনফার্ম হলাম তোমার থুতনি টা পাশ থেকে দেখে আমাদের দুজনেরই থুতনি তে এক জায়গায় কালো তিল আছে, এবার মনে পড়েছে ?
আমি বললাম তুমি কি করে আমার বয়স জানলে ? মাধুরী বললো দিদি বলেছিলো
তুমি আমাকে সুন্দর বলেছিলে কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসতে না সেজন্যে আমি তোমাকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারিনা ! আমার প্রেম একতরফা ছিল যা অসফল হলো !
আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি আমার মতো একটা বেকার ছেলের মধ্যে এমন কি দেখলে ?
সে বললো শুধু দেখা নয় তোমার স্পর্শ পেয়েছি তোমার উন্মুক্ত বলিষ্ঠ দেহ দেখেছি, তোমার মুখের কালো তিল দেখেছি আর দেখেছি তোমার সুন্দর চরিত্র !
আর এখন দেখলাম তোমার প্রতিভা, কি অদ্ভুত নিষ্ঠার সাথে তুমি কাজ করো তোমার প্রতিষ্ঠানের জন্য আর দেশের জন্য ! তোমার জায়গায় অন্য লোক হলে কবে ওই ধন কুবের দের কাছ থেকে টাকা খেয়ে প্রজেক্ট ড্রপ করে দিতো !
আমি বললাম মাধুরী আমি কেন CMD নিজেও তো এই কাজ টা করতে পারতেন ?
মাধুরী বললো না , উনি করলে তুমি যে কমিটমেন্ট টা দিয়েছো সেটা দিতে পারতেন না ! হেসে বললো আর আমি আবার তোমার স্পর্শ পেলাম আর নুতন রূপে দেখলাম সেটাও হতো না ! এটা ছাড়া তোমার CMD তোমার উপর কত নির্ভর করেন তুমি জান ? উনি আমাকে বলেছেন তোমার কার্যদক্ষতা উনার থেকেও বেশি Dr মৈত্র কেস টা এমন সুন্দর ভাবে প্রাইভেট ব্যবসাদার দের হাত থেকে ছিনিয়ে নেবে যে ওরা বুঝতেও পারবেনা কি করে মাত খেলো আর তুমি করলেও তাই !
মাধুরী আমার স্ত্রী পুত্র কন্যার কথা জিজ্ঞেস করলো ! আমি সব কথা বললাম,তারপর আমি মাধুরী কে তার স্বামী সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলাম তো সে বললো সে বিবাহ করেনি ! আমি প্রশ্ন করলাম কেন বিবাহ করোনি ? সে বললো মেয়েরা জীবনে প্রেম শুধু একবার করে, যদিও তার বিবাহের সাথে কোনো সম্বন্ধ নাই ! আর আমি সেই পুরুষ কে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম যাকে আমি ভালোবাসি !
আমাদের দুজনের চোখে জল ঝরছিল ! আমি বললাম অজান্তে আমি তোমার জীবন নষ্ট করেছি আমি তোমার কাছে ক্ষমা যাচনা করছি ! সে বললো তুমি নিষ্পাপ, আর সদাচারী, তুমি তোমার স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসো !
আমি বললাম মাধুরী, আমি সেই বয়েসে সমবেদনা হীন অপরিপক্ক ছেলে ছিলাম সেইজন্যে তোমার প্রেম ভাবনা কে আমি বুঝতে পারিনি ! আমার বিবাহের পর আমার স্ত্রী আমাকে একটা অমানুষ থেকে মানুষ তৈরি করেছে ! এখন আমি তোমার ভাবনাকে বুঝতে পারছি !
মাধুরী বললো সব মানুষের মধ্যেই দোষ গুন্ থাকে ! আমি তোমার দোষ গুন্ দেখে ভালো বাসিনি !
হটাৎ ঘড়ির শব্দে আমাদের বার্তালাপ থামলো দেখলাম রাত ১১ টা বেজে গেছে ! আমি বললাম মাধুরী বাইরে আমার CMD বসে আছে ! মাধুরী অশ্রু প্লাবিত চোখে আমাকে বিদায় দিলো ! আর আমাকে বললো আমি যেন কাউকে আমাদের কথা না জানাই ! আমি বললাম আমি এ কথা আমার স্ত্রী কে জানাতে বাধ্য, কেননা আমাদের মধ্যে কোনো সেক্রেসি নাই ! তবে আর কাউকে বলবোনা, কথা দিচ্ছি !
এই দেখা হওয়ার পর অনেক বছর কেটে গেছে !আমার সন্তানেরা বড় হয়েছে তাদের বিবাহ এবং সন্তান হয়েছে এখন আমরা দাদু দিদা হয়েছি !
কিছু বছর আগে মাধুরীর মৃত্যু হয়েছে আমি জানতেও পারিনি ! এক দিন স্টেট ব্যাঙ্ক-দিল্লি থেকে একটা চিঠি আসলো তাতে লেখা ছিল মিস মাধুরী মারা যাওয়ার আগে আপনার নাম একটা লকার নিয়ে ছিলেন সেটা যেন আমি খালি করে দিয়ে যাই !
আমি ম্যাডাম এর চেম্বারে ঢুকতেই উনি স্টাফ কে বললেন আমি না বললে কাউকে ভেতরে আসতে দেবে না
ম্যাডাম আমাকে বসতে অনুরোধ করলেন ! তারপর বললেন ডাক্তার সায়েব চিনতে পারলেন আমাকে ?
আমি সন্মান পূর্বক বললাম না ম্যাডাম, কিন্তু মনে হচ্ছে কোথাও যেন দেখেছি, হয়তো স্মৃতির অন্তরালে আছে,
ম্যাডাম বললেন আমি মাধুরী, আমি বললাম হ্যাঁ ম্যাডাম ! এবার চিনতে পারলাম- ! উনি বললেন ম্যাডাম নয় মাধুরী !
আমি বললাম মাধুরী ম্যাডাম
উনি বললেন শুধু মাধুরী আমি তোমার থেকে ছোট
মাধুরী বললো আমি তোমাকে প্রথমেই চিনতেপেরেছিলাম তবে কনফার্ম হলাম তোমার থুতনি টা পাশ থেকে দেখে আমাদের দুজনেরই থুতনি তে এক জায়গায় কালো তিল আছে, এবার মনে পড়েছে ?
আমি বললাম তুমি কি করে আমার বয়স জানলে ? মাধুরী বললো দিদি বলেছিলো
তুমি আমাকে সুন্দর বলেছিলে কিন্তু তুমি আমাকে ভালোবাসতে না সেজন্যে আমি তোমাকে বিশ্বাসঘাতক বলতে পারিনা ! আমার প্রেম একতরফা ছিল যা অসফল হলো !
আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি আমার মতো একটা বেকার ছেলের মধ্যে এমন কি দেখলে ?
সে বললো শুধু দেখা নয় তোমার স্পর্শ পেয়েছি তোমার উন্মুক্ত বলিষ্ঠ দেহ দেখেছি, তোমার মুখের কালো তিল দেখেছি আর দেখেছি তোমার সুন্দর চরিত্র !
আর এখন দেখলাম তোমার প্রতিভা, কি অদ্ভুত নিষ্ঠার সাথে তুমি কাজ করো তোমার প্রতিষ্ঠানের জন্য আর দেশের জন্য ! তোমার জায়গায় অন্য লোক হলে কবে ওই ধন কুবের দের কাছ থেকে টাকা খেয়ে প্রজেক্ট ড্রপ করে দিতো !
আমি বললাম মাধুরী আমি কেন CMD নিজেও তো এই কাজ টা করতে পারতেন ?
মাধুরী বললো না , উনি করলে তুমি যে কমিটমেন্ট টা দিয়েছো সেটা দিতে পারতেন না ! হেসে বললো আর আমি আবার তোমার স্পর্শ পেলাম আর নুতন রূপে দেখলাম সেটাও হতো না ! এটা ছাড়া তোমার CMD তোমার উপর কত নির্ভর করেন তুমি জান ? উনি আমাকে বলেছেন তোমার কার্যদক্ষতা উনার থেকেও বেশি Dr মৈত্র কেস টা এমন সুন্দর ভাবে প্রাইভেট ব্যবসাদার দের হাত থেকে ছিনিয়ে নেবে যে ওরা বুঝতেও পারবেনা কি করে মাত খেলো আর তুমি করলেও তাই !
মাধুরী আমার স্ত্রী পুত্র কন্যার কথা জিজ্ঞেস করলো ! আমি সব কথা বললাম,তারপর আমি মাধুরী কে তার স্বামী সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলাম তো সে বললো সে বিবাহ করেনি ! আমি প্রশ্ন করলাম কেন বিবাহ করোনি ? সে বললো মেয়েরা জীবনে প্রেম শুধু একবার করে, যদিও তার বিবাহের সাথে কোনো সম্বন্ধ নাই ! আর আমি সেই পুরুষ কে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম যাকে আমি ভালোবাসি !
আমাদের দুজনের চোখে জল ঝরছিল ! আমি বললাম অজান্তে আমি তোমার জীবন নষ্ট করেছি আমি তোমার কাছে ক্ষমা যাচনা করছি ! সে বললো তুমি নিষ্পাপ, আর সদাচারী, তুমি তোমার স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসো !
আমি বললাম মাধুরী, আমি সেই বয়েসে সমবেদনা হীন অপরিপক্ক ছেলে ছিলাম সেইজন্যে তোমার প্রেম ভাবনা কে আমি বুঝতে পারিনি ! আমার বিবাহের পর আমার স্ত্রী আমাকে একটা অমানুষ থেকে মানুষ তৈরি করেছে ! এখন আমি তোমার ভাবনাকে বুঝতে পারছি !
মাধুরী বললো সব মানুষের মধ্যেই দোষ গুন্ থাকে ! আমি তোমার দোষ গুন্ দেখে ভালো বাসিনি !
হটাৎ ঘড়ির শব্দে আমাদের বার্তালাপ থামলো দেখলাম রাত ১১ টা বেজে গেছে ! আমি বললাম মাধুরী বাইরে আমার CMD বসে আছে ! মাধুরী অশ্রু প্লাবিত চোখে আমাকে বিদায় দিলো ! আর আমাকে বললো আমি যেন কাউকে আমাদের কথা না জানাই ! আমি বললাম আমি এ কথা আমার স্ত্রী কে জানাতে বাধ্য, কেননা আমাদের মধ্যে কোনো সেক্রেসি নাই ! তবে আর কাউকে বলবোনা, কথা দিচ্ছি !
এই দেখা হওয়ার পর অনেক বছর কেটে গেছে !আমার সন্তানেরা বড় হয়েছে তাদের বিবাহ এবং সন্তান হয়েছে এখন আমরা দাদু দিদা হয়েছি !
কিছু বছর আগে মাধুরীর মৃত্যু হয়েছে আমি জানতেও পারিনি ! এক দিন স্টেট ব্যাঙ্ক-দিল্লি থেকে একটা চিঠি আসলো তাতে লেখা ছিল মিস মাধুরী মারা যাওয়ার আগে আপনার নাম একটা লকার নিয়ে ছিলেন সেটা যেন আমি খালি করে দিয়ে যাই !
আমি দিল্লি গিয়ে লকার খুললাম, লকার থেকে একটা বই আর একটা চিঠি বেরোলো ! বই টা তো আমি চিনতে পারলাম কেননা এটা সেই বই যেটা মাধুরী আমাকে দিয়ে ছিল লাইব্রেরি তে জমা করবার জন্য ! চিঠিটা মাধুরী লিখেছিলো আমাকে মারা যাওয়ার কিছু দিন পূর্বে ! চিঠির সারাংশ এই ছিল -
প্রিয়তম,
আমি তোমায় ভালোবাসি, আমার মনের সব রঙ মিশিয়ে, তোমার ছবি এঁকেছি হৃদয়ে। আমি তোমার আর আমার কিছু ছবি পেইন্ট করেছি, ছবিগুলো দেখলে তুমি বুঝতে পারবে আমি তোমাকে কত প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতাম ! একটা ছবি যখন তুমি আমাদের বাড়িতে বই দিতে এসেছিলে, তোমার প্রথম স্পর্শে আমার হাত থেকে বইটা পরে যাচ্ছিলো সেই সময় এক মুহূর্তের জন্য আমরা খুব সন্নিকট এসে ছিলাম ! পরের ছবিটা তোমার ঘরে তুমি শরীর চর্চা করছিলে তোমাকে কৃষ্ণের মতো দেখতে লাগছিলো আর তোমার পাসে আমি মাধুরী যাকে তুমি সেদিন খুবসুন্দৰ বলেছিলে ! তৃতীয় ছবিটা তোমার যখন তুমি আমার নজর বাঁচিয়ে কলেজ চলে গেলে আমি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আমার চিঠির উত্তরের অপেক্ষা করছিলাম ! আমি তোমার জীবনে কৃষ্ণের মীরার আধ্যাত্মিক প্রেমের মতো, যার কোনো বাস্তবিক পরিপূর্ণতা নেই কিন্তু তার অস্তিত্ব আছে, আর সেইজন্যই আমাদের আবার সাক্ষাৎ হওয়াকে শুধু একটা আকষ্মিক ঘটনা বলা যায়না !
আমার লিভার ক্যান্সার হয়েছে, আমি আর মাত্র কিছু দিন বাঁচবো, এই রোগ অত্যধিক মদ্যপান করার জন্য হয়েছে ! আমার দিদির মৃত্যু বছর খানেক আগে হয়েছে, দিদির পরিবারের কেউ তার চরিত্রহীন বোনের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়না তাই তুমি ছাড়া আমার আর কোনো আত্মীয় নাই ! আমি আমার যাবতীয় সম্পত্তি ISCON কে দান করে দিয়েছি, আর সেখানে একটা সফটিক পাথরে আমার আর তোমার নাম লেখা আছে ! তোমার ইউনিভার্সিটি কলেজ এর ব্যাঙ্কএ একটা ফিক্সড ডিপোজিট করেছি সেটা প্রতি বছর আমার-তোমার নামে "মিস্টার & মিস ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডেল" প্রদান করবে ! তুমি NCC ক্যাম্পে চলে যাবার পর আমি তোমার বাড়ি গিয়ে বই টা ফেরত নিয়ে এসেছিলাম, আমি আর একটা বই কিনে তোমার লাইব্রেরি তে জমা করে দিয়ে ছিলাম !আমার প্রথম প্রেম নিবেদনটা তুমি ছিড়তে ভুলে গিয়েছিলে, দেখ চিঠিটা এখনো নিজ স্থানে আছে ! প্রতিদিন বইটা পড়বার জন্য একটু মলিন হয়ে গেছে ! বইটা আমার মুখস্ত হয়ে গেছে, যখনি তোমার কথা মনে হতো তখন বইটা আমি পড়তাম ! আমি জানি আমি তোমার প্রেমিকা ছিলাম না কিন্তু তুমি আমার প্রিয়তম! আমার শেষ প্রার্থনা তুমি এই যাবতীয় জিনিস গুলি যমুনায় ভাসিয়ে দিয়ো কেননা এগুলো থাকলে সেগুলো তোমার দাম্পত্য জীবনে কষ্ট আনতে পারে, আর আমি চাইনা তুমি জীবনে কোনো কষ্ট পাও!
মাধুরী
প্রিয়তম,
আমি তোমায় ভালোবাসি, আমার মনের সব রঙ মিশিয়ে, তোমার ছবি এঁকেছি হৃদয়ে। আমি তোমার আর আমার কিছু ছবি পেইন্ট করেছি, ছবিগুলো দেখলে তুমি বুঝতে পারবে আমি তোমাকে কত প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতাম ! একটা ছবি যখন তুমি আমাদের বাড়িতে বই দিতে এসেছিলে, তোমার প্রথম স্পর্শে আমার হাত থেকে বইটা পরে যাচ্ছিলো সেই সময় এক মুহূর্তের জন্য আমরা খুব সন্নিকট এসে ছিলাম ! পরের ছবিটা তোমার ঘরে তুমি শরীর চর্চা করছিলে তোমাকে কৃষ্ণের মতো দেখতে লাগছিলো আর তোমার পাসে আমি মাধুরী যাকে তুমি সেদিন খুবসুন্দৰ বলেছিলে ! তৃতীয় ছবিটা তোমার যখন তুমি আমার নজর বাঁচিয়ে কলেজ চলে গেলে আমি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আমার চিঠির উত্তরের অপেক্ষা করছিলাম ! আমি তোমার জীবনে কৃষ্ণের মীরার আধ্যাত্মিক প্রেমের মতো, যার কোনো বাস্তবিক পরিপূর্ণতা নেই কিন্তু তার অস্তিত্ব আছে, আর সেইজন্যই আমাদের আবার সাক্ষাৎ হওয়াকে শুধু একটা আকষ্মিক ঘটনা বলা যায়না !
আমার লিভার ক্যান্সার হয়েছে, আমি আর মাত্র কিছু দিন বাঁচবো, এই রোগ অত্যধিক মদ্যপান করার জন্য হয়েছে ! আমার দিদির মৃত্যু বছর খানেক আগে হয়েছে, দিদির পরিবারের কেউ তার চরিত্রহীন বোনের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়না তাই তুমি ছাড়া আমার আর কোনো আত্মীয় নাই ! আমি আমার যাবতীয় সম্পত্তি ISCON কে দান করে দিয়েছি, আর সেখানে একটা সফটিক পাথরে আমার আর তোমার নাম লেখা আছে ! তোমার ইউনিভার্সিটি কলেজ এর ব্যাঙ্কএ একটা ফিক্সড ডিপোজিট করেছি সেটা প্রতি বছর আমার-তোমার নামে "মিস্টার & মিস ইউনিভার্সিটি গোল্ড মেডেল" প্রদান করবে ! তুমি NCC ক্যাম্পে চলে যাবার পর আমি তোমার বাড়ি গিয়ে বই টা ফেরত নিয়ে এসেছিলাম, আমি আর একটা বই কিনে তোমার লাইব্রেরি তে জমা করে দিয়ে ছিলাম !আমার প্রথম প্রেম নিবেদনটা তুমি ছিড়তে ভুলে গিয়েছিলে, দেখ চিঠিটা এখনো নিজ স্থানে আছে ! প্রতিদিন বইটা পড়বার জন্য একটু মলিন হয়ে গেছে ! বইটা আমার মুখস্ত হয়ে গেছে, যখনি তোমার কথা মনে হতো তখন বইটা আমি পড়তাম ! আমি জানি আমি তোমার প্রেমিকা ছিলাম না কিন্তু তুমি আমার প্রিয়তম! আমার শেষ প্রার্থনা তুমি এই যাবতীয় জিনিস গুলি যমুনায় ভাসিয়ে দিয়ো কেননা এগুলো থাকলে সেগুলো তোমার দাম্পত্য জীবনে কষ্ট আনতে পারে, আর আমি চাইনা তুমি জীবনে কোনো কষ্ট পাও!
মাধুরী
আমি হাজার কষ্ট হলেও কাঁদতে পারি না, কিন্তু সেদিন আমি খুব জোরে কাঁদলাম কিন্তু জোরে কাঁদবার পর আমার মন গ্লানি মুক্ত হয়ে গেলো, আমি মাধুরীর সব জিনিস গুলো যমুনায় ভাসিয়ে দিলাম আর ফেরত এসে সোজা মন্দিরে গেলাম গিয়ে মাধুরীর আত্মার জন্য প্রার্থনা করলাম !
ভিলাই ফেরত আসলে পরে আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তোমার ? আমি আগেই বলেছি আমার আর আমার স্ত্রীর মধ্যে খুব বন্ধুত্ব, আমরা কখনো নিজেদের মধ্যে কোনো কথা গোপন করি না, কিন্তু আজ কি করে আমার জীবনের এই রহস্য কে বিমোচন করবো ? স্ত্রী আবার জিজ্ঞেস করলো কোনো আর্থিক সমস্যা হয়েছি কি ? আমি বললাম না, সে বললো তুমি আমাকে না বলে থাকতে পারবে ? আমি বললাম না, তখন সে বললো তুমি আমাকে সাবজেক্টটা বল, আমি বললাম নারী ঘটিত ব্যাপার, আমার স্ত্রী তো হেসে খুন আমি তখন হাত জোর করে স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইলাম, আর পুরো ঘটনা বিস্তারে বললাম, আমার স্ত্রী ও কেঁদে ফেললো, বললো মাধুরী তো তোমাকে ভালোবেসেছিলো আমাদের বিয়ের আগে এতে মাধুরীর কোনো দোষ নাই, কিন্তু তুমি যদি দিল্লির মিটিং থেকে ফিরে এসে আমাকে মাধুরীর কথা বলতে তাহলে এরখম ট্রাজেডি হতো না, আমি বললাম আমি সাহস পাইনি, আমি স্ত্রী কে বললাম একথা যেন আমাদের সন্তানরা জানতে না পারে কেননা সন্তানরা নিজের বাবা-মার ভাগ অন্য কাউকে দিতে পারেনা, আমার স্ত্রী বললো চলো কালীবাড়ি গিয়ে মন্দিরে একটি মাধুরীর নাম পুজো দিয়ে আসি !
হাঁ, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, তাহলে শুনুন -
দিল্লির মিটিংয়ের পর CMD সাহেবের আমার উপর একটু সন্দেহ করতে লাগলেন একদিন আমাকে বলেই ফেললেন Dr আপনি আমাকে বলুন আপনি সেইদিন ৪-৫ ঘন্টা সেক্রেটারির ঘরে কি করছিলেন ? আমি বললাম স্যার উনি আমার প্রতিবেশী ছিলেন ছোটবেলাতে তাই পুরোনো দিনের গল্প হচ্ছিলো, CMD বললেন কিন্তু আপনি তো কাঁদছিলেন ? আমি বললাম ম্যাডাম এর দিদিও আমার দিদির মতো ছিলেন উনি মারা গেছেন শুনে চোখে জল এসে গিয়েছিল, এই মিথ্যা বচনটা মহাভারতের "অস্সথমা হতো ইতি গজ" র মতো নয় কি ?
ভিলাই ফেরত আসলে পরে আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তোমার ? আমি আগেই বলেছি আমার আর আমার স্ত্রীর মধ্যে খুব বন্ধুত্ব, আমরা কখনো নিজেদের মধ্যে কোনো কথা গোপন করি না, কিন্তু আজ কি করে আমার জীবনের এই রহস্য কে বিমোচন করবো ? স্ত্রী আবার জিজ্ঞেস করলো কোনো আর্থিক সমস্যা হয়েছি কি ? আমি বললাম না, সে বললো তুমি আমাকে না বলে থাকতে পারবে ? আমি বললাম না, তখন সে বললো তুমি আমাকে সাবজেক্টটা বল, আমি বললাম নারী ঘটিত ব্যাপার, আমার স্ত্রী তো হেসে খুন আমি তখন হাত জোর করে স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইলাম, আর পুরো ঘটনা বিস্তারে বললাম, আমার স্ত্রী ও কেঁদে ফেললো, বললো মাধুরী তো তোমাকে ভালোবেসেছিলো আমাদের বিয়ের আগে এতে মাধুরীর কোনো দোষ নাই, কিন্তু তুমি যদি দিল্লির মিটিং থেকে ফিরে এসে আমাকে মাধুরীর কথা বলতে তাহলে এরখম ট্রাজেডি হতো না, আমি বললাম আমি সাহস পাইনি, আমি স্ত্রী কে বললাম একথা যেন আমাদের সন্তানরা জানতে না পারে কেননা সন্তানরা নিজের বাবা-মার ভাগ অন্য কাউকে দিতে পারেনা, আমার স্ত্রী বললো চলো কালীবাড়ি গিয়ে মন্দিরে একটি মাধুরীর নাম পুজো দিয়ে আসি !
হাঁ, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি, তাহলে শুনুন -
দিল্লির মিটিংয়ের পর CMD সাহেবের আমার উপর একটু সন্দেহ করতে লাগলেন একদিন আমাকে বলেই ফেললেন Dr আপনি আমাকে বলুন আপনি সেইদিন ৪-৫ ঘন্টা সেক্রেটারির ঘরে কি করছিলেন ? আমি বললাম স্যার উনি আমার প্রতিবেশী ছিলেন ছোটবেলাতে তাই পুরোনো দিনের গল্প হচ্ছিলো, CMD বললেন কিন্তু আপনি তো কাঁদছিলেন ? আমি বললাম ম্যাডাম এর দিদিও আমার দিদির মতো ছিলেন উনি মারা গেছেন শুনে চোখে জল এসে গিয়েছিল, এই মিথ্যা বচনটা মহাভারতের "অস্সথমা হতো ইতি গজ" র মতো নয় কি ?